স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : বিশ্বজুড়ে মৃত্যু মিছিল। ভারতেও নিয়মিত পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেনা। মুখে না বললেও কোথাও না কোথাও অবসাদ গ্রাস করছে পড়ুয়াদের। এই পরিস্থিতিকে সামলাতে কবিতা পাঠের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উলুবেড়িয়া কলেজের বাংলা বিভাগ। ভাবছেন কাব্যিক ছন্দেই অবসাদের পথ প্রশমনের।

মার্চের শেষ দিকে শেষবার স্কুল-কলেজমুখী হয়েছিল পড়ুয়ারা। তারপর থেকে দীর্ঘ লকডাউন। তাঁর আনলক এক দুই পেরিয়ে এখন তিনে পা দিয়েছে কিন্তু যেহেতু ‘হু’ থেকে স্কুল কলেজ খুলতে নিষেধ করছে তাই সেই ঝুঁকি নিচ্ছে না সরকার কিন্ত্যু এই অনলাইন ক্লাসের চক্করে বাড়িতে একঘেয়ে জীবনে গ্রাস করছে অবসাদ। প্রায় পাঁচ মাস বাড়ির চারদেওয়ালে গন্ডিবদ্ধ জীবন একপ্রকার মানসিক অবসাদ ডেকে এনেছে বহু পড়ুয়াদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যেও। তা থেকেই ‘মুক্তি’র সন্ধানে নব উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামীণ হাওড়ার উলুবেড়িয়া কলেজের বাংলা বিভাগ।


বাড়িতে বসেই ভার্চুয়াল জগতকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত কবিতা পাঠের আসর বসাচ্ছে উলুবেড়িয়া কলেজের বাংলা বিভাগের পড়ুয়ারা। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অমর পাত্রের উদ্যোগেই মূলত এই ব্যতীক্রমী ভাবনা। কবি ও সাহিত্যপ্রেমী হিসাবে পরিচিত অমর বাবু ফেসবুকে ‘উলুবেড়িয়া কলেজ-সাম্মানিক স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বাংলা বিভাগ’ নামে একটি পেজ খুলেছেন। সেই পেজে বাংলা বিভাগের পড়ুয়াদের পাশাপাশি কলেজের অন্যান্য বিভাগের সাহিত্যপ্রেমী পড়ুয়া-অধ্যাপকরাও নিয়মিত কবিতা পাঠ করছেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট পেজে মাঝেমধ্যেই বাংলা সাহিত্যজগতের গুণী ব্যক্তিত্বরাও কবিতা পাঠে অংশ নিচ্ছেন।

এপার বাংলার কবিদের পাশাপাশি ওপার বাংলার কবিরাও হাজির হচ্ছেন কবিতার ডালি নিয়ে। শুধু পড়ুয়া বা সাহিত্যপ্রেমী মানুষের জন্য কবিতা পাঠ নয়, এভাবেই লকডাউনে দু’ই বাংলার সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে উলুবেড়িয়া কলেজের বাংলা বিভাগের এই ফেসবুক পেজ। উদ্যোক্তা তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অমর পাত্র জানান, ‘সারা বিশ্ব যখন এক অস্থির সময়ের সম্মুখীন ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে পড়ুয়া-অধ্যাপক-সাহিত্যপিপাসু মানুষের মধ্যে সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মেলবন্ধন ঘটানোর লক্ষ্যে গত ২৪ জুন এই পেজটির যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী কবিতা পাঠে হাজির হন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য। এর পাশাপাশি, সাকিরা পারভীন, শাহনাজ নাজরিন, সৌমনা দাশগুপ্ত, বল্লরী সেন, অজিত বাইরির মতো দুই বাংলার বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট কবি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কবিতা পাঠের আসরে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও বহু পড়ুয়া নিয়মিত কবিতা পাঠ করছেন।”

এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনের কবিতা পেজে আপলোড করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানান। কবিতার সঙ্গে সাহিত্য ও তত্ত্বকথা নিয়েও আলোচনা চলছে এই বিশেষ পেজে। মাস দেড়েকের মধ্যেই ভার্চুয়াল জগতে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে সাহিত্যচর্চার এই পেজটি। বাংলা বিভাগ সূত্রে খবর,এখনো পর্যন্ত প্রায় ৬৬ হাজার মানুষ এই পেজের পোস্ট দেখেছেন এবং নিয়মিত প্রায় ৪ হাজার পাঠক এই কবিতা পাঠ ফলো করেন।

দীপেন্দু,রামিজ,সৈকত,সমুজ্জ্বল,ঈপ্সিতার মতো সাহিত্যপ্রেমী ছাত্রছাত্রীরাও ভার্চুয়াল জগতে কবিতা পাঠের এহেন আসর একেবারে চেটেপুটে উপভোগ করছে। উলুবেড়িয়া কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুন্সী রামিজ রাজার কথায়,”দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস কলেজের মুখ দেখিনি।দেখা হয়নি বন্ধুদের সাথেও। ঘরে বসে যখন একপ্রকার বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি ঠিক সেই মুহুর্তে একটা মুক্তির বাতাস নিয়ে হাজির হয়েছে এই পেজ। সাহিত্যজগতের বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্য যেমন আমাদের সমৃদ্ধ করছে;তার পাশাপাশি আমাদের সৃষ্টিশীল ভাবনাকেও আমরা তুলে ধরতে পারছি এই প্ল্যাটফর্মে। সত্যিই এ এক অনন্য উদ্যোগ।” ২২শে শ্রাবণকে কেন্দ্র করে আগামী এক সপ্তাহ ধরে ভার্চুয়াল এই প্ল্যাটফর্মেই রবীন্দ্রনাথের গান,কবিতা,আলোচনা,নৃত্যের মাধ্যমেই কবিপ্রণামের বিশেষ আয়োজন করেছে উলুবেড়িয়া কলেজের বাংলা বিভাগ।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা