পুনে: বিজেপি নেতাদের পরে আরএসএস প্রধানের মুখেও শোনা গেল গরু মাহাত্ম্য। মোহন ভাগবত জানিয়েছেন গরু দেখাশোনার কাজে নিয়োগ করার পর থেকে অপরাধ মানসিকতা কমেছে জেলের অপরাধীদের।

পুনের একটি অনুষ্ঠান থেকে তিনি জানান, গরু হল বিশ্বের মাতা। যা অন্যান্য পশু, মাটি পাখি এবং মানুষদের প্রতিপালন করে এবং বিভিন্ন ধরণের রোগ জীবাণু থেকে রক্ষা করে। এই ধরণের মন্তব্য করাতে যে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়া যে মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এর আগে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন গরুই একমাত্র প্রাণী যা নিঃশ্বাসের সঙ্গে অক্সিজেন ছাড়ে। গরুর শিং- সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নিতে পারে বলেও দাবি করেছিলেন এক বিজ্ঞানী। আগে অনেকেই গুঁতোর ভয় সমীহ করত গরুর শিং-কে। কিন্তু এই দাবি করার পর থেকেই ভয়-ভক্তি মিলেমিশে ল্যাজে-গোবরে অবস্থা। সাধ্বী প্রজ্ঞা জানিয়েছিলেন গরুর গায়ে হাত বোলালে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়াও দাবি করেছিলেন গো মূত্র ক্যান্সার প্রতিষেধক। তা খেয়ে ওনার ক্যান্সার নিরাময় হয়ে গিয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন এর আগে জেলের ভেতরে গোয়াল তৈরি করা হত। আর সেখানে কাজ করত জেলের অপরাধীরাই। আর জেলের আধিকারিকেরা লক্ষ করেছিলেন এর ফলে অপরাধীদের অপরাধ মানসিকতা ধীরে ধীরে কমেছে। আরও অনেক জেল আধিকারিকদের থেকেও অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন পুরো সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে দেশী গরু সংরক্ষণ করার জন্য এবং তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে। এটা অতীব প্রয়োজনীয়। এর আগে সাধ্বী প্রজ্ঞা থেকে শুরু করে হালের রাজ্য বিজেপি সভাপতি গরু নিয়ে যে ধরণের মন্তব্য করেছিলেন তাতে শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের মধ্যে দেখা গিয়েছিল ক্ষোভ। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে হাসির পাত্র হতে হয়েছিল তাদের। আর সেই তালিকাতে যোগ হল নতুন নাম মোহন ভাগবত। তার এই মন্তব্যর পরে ভারতীয় রাজনীতি যে আবারও গরুময় হয়ে উঠল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ