বেজিং: প্রায় ৩.৫ লিটার ওয়াইন৷ ১১৮ আউন্স৷ রঙ হলুদ৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর গন্ধ পুরোপুরি চিনা ওয়াইনের মত৷ গন্ধের মাত্রা অত্যন্ত তীব্র৷ মনে করা হচ্ছে এই ওয়াইন প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো৷

কথিত আছে ওয়াইন যত পুরনো হয় তার নেশা তত বেশি হয়৷ তাই প্রবাদেও আছে “ওল্ড ওয়াইন ইন এ নিউ বটল” অর্থাৎ সাজ পোশাক যতই পুরনো হোক না কেন পুরনো ওয়াইন সবসময়ই দামী এবং তার চাহিদা তুঙ্গে৷ সেই কারণেই অনেকেই ওয়াইনকে পুরনো করতে ডাম্পিং রুমে রেখে দেন৷ কেউ আবার ওয়াইন রাখার আলাদা ব়্যাকও তৈরি করেন৷

আরও পড়ুন: দীপাবলিতে হিংসা মিজোরামে

তবে ১০০ কিমবা দুশো বছরের পুরনো ওয়াইনের খোঁজ মিললেও প্রায় ২০০০০ বছরের পুরনো ওয়াইন? অকল্পনিয়৷ সেই সুরারই হদিশ পেয়েছেন পুরাতত্ববিদেরা৷ ওই সারে তিন লিটার ওয়াইনটি রয়েছে একটি ব্রোঞ্জের পাত্রে৷ পাত্রটি সিল করা৷ যাতে বাতাস ঢুকে তা নষ্ট করে দিতে না পারে ওয়াইনকে৷ এতটা পড়ে নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে কোথায় মিলল এত বছরের পুরনো ওয়াইন৷ হেনানে পাওয়া গিয়েছে সেই দুর্মূল্য তরল৷ এক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এই খবর৷

লউয়াং শহরের ইনসস্টিটিউট অফ কালচারাল রেলিক্স অ্যান্ড আর্কিওলজিকাল প্রধান শি জিয়াজেন জানিয়েছেন ওই ব্রোঞ্জের পাত্র ভর্তি তরল নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরও গবেষণা করার জন্য৷ তার গুনগত মান ও এলকোহলের মাত্রা সঠিক রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে৷

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে ভারতের সূচি দেখে নিন

ওয়াইন ভর্তি পাত্রটি যে সমাধির ভিতর পাওয়া গিয়েছে সেখানে আর একটি বন্য হাংসাকৃতির বাতিদানও মিলেছে৷ আর পাওয়া গিয়েছে সেখানে বসবাসকারী মানুষের কিছু ব্যবহার করা সামগ্রী৷ জানিয়েছেন শি৷

মনে করা হচ্ছে ওয়েস্টার্ন হ্যান ডাইনেস্টির সময়কালের ওয়াইন এটি৷ অর্থাৎ ২০২ বিফোর ক্রাইস্ট থেকে ৮ এডি এর সময়কাল৷ তবে পাত্রটির তরল যাতে উবে না যায় তার জন্য সেটি কিভাবে আটকানো ছিল এবং কোথায় কিভাবে রাখা ছিল সে ব্যাপারে জিংহুয়া তাদের রিপোর্টে খুব একটা খোলসা করে জানায়নি৷

তবে ওই সময়কালের আরেকটি সুরার অনুসন্ধানের কথা জানা গিয়েছে৷ যে সুরা তৈরি হয়েছিল চাল ও জোয়ার থেকে৷ সেটিও ব্রোঞ্জের পাত্রেই রাখা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে৷ যে সুরা সেসময় উৎসব অনুষ্ঠানে পান করা হত৷ তবে এর আগে ওই সময়কালের আঙুরের অ্যালকোহল আগে মেলেনি৷

এর আগে ২০১০ সালে পুরাতত্ববিদরা ২ হাজার চারশো বছরের পুরনো সুপের পাত্র সমাধি থেকে খুঁজে পায়৷ সসময় জিয়ান বিমান বন্দরের স্থান বাড়ানোর জন্য খননের কাজ চলছিল৷ সেই সময়ই বিখ্যাত প্রাচীন টেরাকোটা শিল্পীদের বসতি এলাকায় খনন করেই ওই পাত্র পাওয়া যায়৷