মাদ্রিদ: লকডাউন পরবর্তী লা লিগায় দুর্বার গতিতে ছুটছে রিয়াল মাদ্রিদের বিজয়রথ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা যখন তিন ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করে তাঁদের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে তখন সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার রামোস-বেঞ্জেমারা তো করছেনই, একইসঙ্গে প্রতি ম্যাচে বুঝিয়ে দিচ্ছেন পালটা বার্সেলোনাকে তাঁরা কোনওরকম সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতী নন।

বুধবার লিগের ৩৫তম ম্যাচে এস্প্যানিয়লকে হারিয়ে ব্যবধান এক পয়েন্টে কমিয়ে এনেছিল কিকে সেতিয়েনের দল। ঘরের মাঠে শুক্রবার নিজেদের ৩৫তম ম্যাচ জিতে পয়েন্টের ফারাক বাড়িয়ে ফের চারে নিয়ে গেল জিদানের ছেলেরা। অর্থাৎ, বার্সেলোনা লিগের বাকি তিন ম্যাচের সবক’টিতে জিতলেও রিয়াল মাদ্রিদ দু’টো ম্যাচ জিতলেই ৩৪ বারের জন্য চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব ঘরে তুলবে। এদিন আলফ্রেদো দি স্তেফানো স্টেডিয়ামে আলাভেসকে ২-০ গোলে হারাল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। দুই অর্ধে এদিন রিয়ালের হয়ে গোলদু’টি করলেন করিম বেঞ্জেমা এবং মার্কো আসেনসিও।

সাসপেনশনের কারণে এদিন মাঠে ছিলেন না রিয়াল মাদ্রিদ রক্ষণের দুই স্তম্ভ সার্জিও রামোস এবং ড্যানি কার্ভাহাল। চোটের কারণে লেফট-ব্যাকে মার্সেলোকেও এদিন পাননি জিদান। লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে এই ব্রাজিলিয়ানকে হয়তো আর পাবে না রিয়াল। সবমিলিয়ে রক্ষণের নতুন কম্বিনেশন নিয়ে মাঠে নামার বিষয়টি এদিন ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল জিদানের কাছে। সেন্টার-ব্যাকে রামোসের পরিবর্তে রাফায়েল ভারানে, রাইট-ব্যাকে কার্ভাহালের পরিবর্তে লুকাস ভ্যাসকুয়েজ এবং লেফট-ব্যাকে মার্সেলোর পরিবর্তে এদিন শুরু করেন ফারল্যান্ড মেন্ডি।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে রিয়াল রক্ষণে হানা দেয় আলাভেস। তাঁদের একটি প্রয়াস ক্রসবারে প্রতিহত হয়। ফিরতি শট গোললাইন সেভ করেন ভারানে। এরপরেই মোটামুটি আঁচ করা গিয়েছিল দিনটা রিয়ালেরই হতে চলেছে। সেই সম্ভাবনা আর উজ্জ্বল হয় ১০ মিনিটে। বল ধরে বক্সে আগুয়ান মেন্ডিকে ফাউল করে বসেন আলাভেসের এক ডিফেন্ডার। পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। গত কয়েকম্যাচে স্পটকিক থেকে ব্যাপক ধারাবাহিকতা দেখানো রামোসের পরিবর্তে এদিন স্পটকিক নেওয়ার দায়িত্ব বর্তায় বেনজেমার কাঁধে। তবে নিরাশ করেননি ফরাসি স্ট্রাইকার। ১১ মিনিটে নিশানায় অব্যর্থ থেকে স্কোরলাইন ১-০ করেন তিনি। মার্সেলোর অভাব পুষিয়ে দিয়ে বাম প্রান্ত বরাবর দারুণ অপারেট করলেন মান্ডি।

ক্রুসের একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে আলাভেসের একটি দুর্দান্ত প্রয়াস কুর্তোয়ার দস্তানায় প্রতিহত হয়। দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন আসেনসিও। প্রতি-আক্রমণে বেনজেমার পাস থেকে বল তেকাঠিতে রাখেন স্প্যানিয়ার্ড। অফসাইডের গন্ধ থাকলেও ভিএআরের সাহায্য নিয়ে গোল নিশ্চিত করেন রেফারি। জয়ের ফলে ৩৫ ম্যাচ থেকে রিয়ালের সংগ্রহ ৮০ পয়েন্ট। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে চার পয়েন্ট পিছিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ