মাদ্রিদ: নয়া ফর্ম্যাটে কোপা দেল রে টুর্নামেন্টে দীর্ঘস্থায়ী হল না দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবের দৌড়। শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিল রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা দুই ক্লাবই। কেবলমাত্র সেমিফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে দু’টি লেগ মিলিয়ে। তার আগে সিঙ্গল এলিমিনেশন ফর্ম্যাটে চলতি কোপা দেল রে’র কোয়ার্টারের অভিজ্ঞতা তিক্ত হয়ে রইল লিওনেল মেসি-করিম বেঞ্জেমাদের জন্য।

রিয়েল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে উত্তেজক ম্যাচে ৩-৪ গোলে হেরে রিয়াল মাদ্রিদ ছিটকে যাওয়ার পর অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের কাছে ০-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল কিকে সেতিয়েনের বার্সেলোনা। ২০০৯-১০ মরশুমের পর ফাইনালের আগে প্রথমবার একইসঙ্গে কোয়ার্টার থেকে বিদায় নিল স্পেনের দুই জায়ান্ট ক্লাব। এর আগে দশটি মরশুমে প্রত্যেকবারই ফাইনালে অংশ নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা বার্সেলোনার মধ্যে কোনও না কোনও দল। চলতি মরশুমের আগে গত ছ’টি মরশুমে টানা কোপা দেল রে ফাইনাল খেলেছে বার্সেলোনা।

স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে এদিন রিয়াল মাদ্রিদের টানা ২১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে সেমিফাইনালে জায়গা পাকা করল রিয়াল সোসিয়েদাদ। গত ছ’বছরে প্রহমবারের জন্য টুর্নামেন্টের শেষ চারে তারা। অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময়ের গোলে ডুবল বার্সেলোনা। এদিন রিয়ালের হার থাবা বসাল গত আট ম্যাচে তাদের টানা জয়ের পথে। একইসঙ্গে অক্টোবরের পর কোনও প্রতিযোগীতায় এটিই প্রথম হার জিদানের দলের। ২২ মিনিটে এদিন সোসিয়েদাদের হয়ে প্রথম গোল করেন রিয়াল থেকেই লোনে যোগ দেওয়া মার্টিন ওডেগার্ড।গোলের পর কোনওরকম সেলিব্রেশন করেননি তিনি।

৫৪ এবং ৫৬ মিনিটে আরও দু’টি গোল করে জিদানের দলকে কার্যত ম্যাচ থেকে বাই-বাই করে দেন আলেকজান্ডার আইজাক। ৫৯ মিনিটে মার্সেলো একটি গোল শোধ করলে ৬৯ মিনিটে সোসিয়েদাদের হয়ে চতুর্থ গোল করেন মিকেল মেরিনো। এরপর জোড়া গোল করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হয়নি জিদানের ছেলেরা। শেষ অবধি ৩-৪ গোলে হেরেই মাঠ ছাড়তে হয় লস ব্ল্যাঙ্কোসদের। ম্যাচ শেষে মার্সেলো বলেন, ‘ঘরের মাঠে চার গোল খেয়ে ম্যাচে ফিরে আসাটা ভীষণই কঠিন। এই হারটা খুব হতাশার। তবে আমাদের কাছে অন্যান্য প্রতিযোগীতা আছে প্রমাণ করার জন্য।’

অন্যদিকে কোপা দেল রে’তে ৭৫তম আবির্ভাব ম্যাচ সুখের হল না লিও মেসির জন্য। দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেললেও সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলেন আতোয়াঁ গ্রিজম্যান, লিওনেল মেসিরা। যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংযুক্তি সময় বাজিমাত করে গেল অ্যাথলেটিক বিলবাও। ৯৩ মিনিটে ইবাই গোমেজের ক্রস থেকে মাথা দিয়ে দর্শনীয় ফ্লিকে গোল করে বার্সার দৌড় থামান ইনাকি উইলিয়ামস।