বেঙ্গালুরু: চলতি আইপিএলে টানা ৬টি ম্যাচে হার মানল বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর৷ অবশ্য গত বছর রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে হার মিলিয়ে আইপিএলে এক টানা সাতটি ম্যাচে পরাজিত হওয়ার লজ্জাজনক নজির গড়ল আরসিবি৷

এবছর চিপকে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হার দিয়ে আইপিএল অভিযান শুরু করে কোহলি অ্যান্ড কোং৷ পরে মুম্বই ও কলকাতার কাছে হোম ম্যাচে এবং হায়দরাবাদ ও রাজস্থানের কাছে অ্যাওয়ে ম্যাচে পরাজয় স্বীকার করতে হয় ব্যাঙ্গালোরকে৷ এবার দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ঘরের মাঠে মাথা নত করে আরসিবি৷ দিল্লি ৪ উইকেটে পরাজিত করে কোহলিদের৷

আরও পড়ুন: স্বপ্নের অভিষেকে আইপিএলের এক দশকের রেকর্ড ভাঙলেন আলজারি

চিন্নাস্বামীতে প্রথমে ব্যাট করে ব্যাঙ্গালোর নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান তোলে৷ বিরাট কোহলি ও মঈন আলি ছাড়া বলার মতো রান করতে পারেননি আর কেউই৷ রাবাদা একার হাতেই ধস নামান ব্যাঙ্গালোর শিবিরে৷

পালটা ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস ১৮.৫ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৫২ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায়৷ অধিনায়কোচিত হাফসেঞ্চুরি করেন শ্রেয়স আইয়ার৷

আরসিবি ওপেনার পার্থিব প্যাটেল ৯ বলে ৯ রান করে মরিসের বলে আউট হন৷ ডি’ভিলিয়ার্স খুব বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি দলনায়ক কোহলিকে৷ রাবাদার বলে এবিডি আউট হন ১৬ বলে ১৭ রান করে৷ অক্ষরের বলে সাজঘরে ফেরার আগে স্টোইনিসের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৭ বলে ১৫ রান৷

আরও পড়ুন: রাজস্থানের বিরুদ্ধে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত কলকাতার

মঈন আলি ১টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১৮ বলে ৩২ রান করে লামিছানের শিকার হন৷ রাবাদার বলে সাজঘরে ফেরার আগে বিরাট কোহলি করেন ৩৩ বলে ৪১ রান৷ তিনি ১টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন৷

ইনিংসের ১৮ তম ওভারে কোহলিকে ছাড়াও রাবাদা আউট করেন আকাশদীপ ও পবন নেগীকে৷ আকাশদীপ ১২ বলে ১৯ রান করেন৷ নেগী খাতা কুলতে পারেননি৷মহম্মদ সিরাজ ১ রান করে মরিসের দ্বিতীয় শিকার হন৷ সাউদি ৯ ও চাহাল ১ রানে অপরাজিত থাকেন৷

রাবাদা ৪ ওভারে ২১ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট দখল করেন৷ ২৮ রানে ২টি উইকেট নেন মরিস৷ অক্ষর ও লামিছানে নিয়েছেন ১টি করে উইকেট৷ ইশান্ত কোনও উইকেট পাননি৷

আরও পড়ুন: আইপিএলের উন্মাদনা বার্সা-অ্যাটলেটিকো ম্যাচের মতোই, নু-ক্যাম্পে ম্যাচ দেখে বললেন দ্রাবিড়

দিল্লি ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে খাতা খোলার সুযোগ পাননি শিখর ধাওয়ান৷ তাঁকে ফিরিয়ে দেন সাউদি৷ পৃথ্বী শ’কে সঙ্গে নিয়ে শ্রেয়স আইয়ার দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ৬৮ রান যোগ করেন৷ পৃথ্বী ২২ বলে ২৮ রান করে আউট হন৷ তাঁর উইকেট নেন পবন নেগী৷

কলিন ইনগ্রাম ২১ বলে ২২ রান করে মঈন আলিকে উইকেট দেন৷ শেষবেলায় ছ’বলের মধ্যে দিল্লি তিনটি উইকেট হারালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ততক্ষণে নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছেন শ্রেয়সরা৷ সাইনির বলে আউট হওয়ার আগে ৮টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৫০ বলে ৬৭ রান করেন আইয়ার৷ একই ওভারে মরিসের (০) উইকেটও তুলে নেন সাইনি৷ পরের ওভারে ঋষভ পন্তকে (১৮) ফিরিয়ে দেন সিরাজ৷

তেওয়াটিয়াকে সঙ্গে নিয়ে অক্ষর প্যাটেল দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন৷ দুরন্ত বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচের সেরা হয়েছেন কাগিসো রাবাদা৷