চেন্নাই: ‘বেস্ট ফিনিশার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’। মহেন্দ্র সিং ধোনির নামের পাশে এই তকমা জুড়ে দেওয়ার স্বপক্ষে বিশ্ব ক্রিকেটে উদাহরণ ভুরি-ভুরি। রবিবাসরীয় চিপক হতে পারত সেই উদাহরণের তালিকার নতুন সংযোজন। শেষ বলে যদি না শার্দুল ক্রিজে পৌঁছনোর আগেই পার্থিবের থ্রো সরাসরি উইকেট ভেঙে দিত। শেষ বলের থ্রিলারে চেন্নাইকে ১ রানে হারিয়ে আইপিএলে তৃতীয় জয় তুলে নিল ব্যাঙ্গালোর। ব্যর্থ হল মাহির অপরাজিত ৪৮ বলে ৮৪ রানের ‘একক’ লড়াই।

আরসিবির ছুড়ে দেওয়া ১৬২ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে এদিন শুরুতে স্টেইন ম্যাজিকে দিশাহারা হয়ে যায় সিএসকে ব্যাটিং লাইন আপ। ৫ রানে ওয়াটসনকে এবং শূন্য রানে রায়নাকে ডাগ আউটে ফেরান প্রোটিয়া স্পিডস্টার। অন্যদিকে ব্যক্তিগত ৫ ও ৯ রানে যাদবের শিকার হন ডু’প্লেসি ও কেদার যাদব। ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেসামাল সিএসকে অক্সিজেন পায় পঞ্চম উইকেটে রায়ডু-ধোনির ৫৫ রানের পার্টনারশিপে ভর করে।

কিন্তু ২৯ রানে রায়ডু যখন ফিরলেন চেন্নাই তখন ১৩.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৩। ম্যাচ জয়ের জন্য ম্যাচে দ্বিতীয়বার যোগ্য সঙ্গীর অভাবে ভুগলেন ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থাকা ধোনি। যথাক্রমে ১১ ও ৫ রানে ফিরলেন জাদেজা ও ব্র্যাভো। দায়িত্বটা ফের একবার নিয়েই নিলেন মাহি। একার হাতে সাধ্যমতো দলকে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছনোর চেষ্টা করেও শেষ ওভারে প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় ২৬ রানের।

অন্তিম ওভারের প্রথম বলে চার, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বলে ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরণ ৩ বলে ১০-এ নামিয়ে আনেন চেন্নাই দলনায়ক। চতুর্থ বলে ২ রান সংগ্রহ করে এবং পঞ্চম বলে ফের ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছিলেন ‘বাহুবলী’ ধোনি।

শেষ বলে যখন জয়ের জন্য ২ রান দরকার তখন উমেশ যাদবের ইয়র্কার ব্যাটে লাগাতে পারেননি মাহি। তবু প্রাণপন দৌড়ে ম্যাচ সমতায় আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধোনি পৌঁছে গেলেও উল্টোদিকে শার্দুল ক্রিজে পৌঁছনোর আগেই দুরন্ত থ্রোয়ে উইকেট ভেঙে দেন পার্থিব। ১ রানে থ্রিলার জয়ে কোহলিরা উচ্ছ্বাসে মাতলেও ধোনির ব্যাটে আরও এক রূপকথার গল্প থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হন ক্রিকেট অনুরাগীরা।