স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জাতি বিদ্বেষমূলক কটুক্তির ঘটনায় এবার চূড়ান্ত হুশিয়ারি দিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা। বুধবার তারা সাফ জানালেন অভিযুক্ত দুজন ছাত্রনেতা বরাবরের মত সাসপেন্ড না হলে নিজেদের দাবিতেই অনড় থাকবেন তারা।এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিলেন বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা।

এই ঘটনায় এদিন ফের আলোচনায় বসেন শিক্ষকরা। অভিযুক্ত ছাত্রনেতা বিশ্বজিত দে শিক্ষকদের কাছে ফুল দিয়ে ক্ষমা চান। কিন্তু শিক্ষকরা জানান, ক্ষমা চাইলে হবে না। তাদের সাসপেন্ড করতে হবে। কারণ এই ঘটনা নতুন নয়, ওই দুজন এইরকম ঘটনা আগেও ঘটিয়েছেন বলে দাবি শিক্ষকদের।

বিক্ষোভরত ইংরাজি বিভাগের অধ্যাপক দেবব্রত দাস Kolkata24x7-কে বলেন, “আপনারা জানেন গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাসে এসে সকলের সঙ্গে কথা বলেন। সেই আলোচনার পর আমরা আশ্বস্ত হই। আমাদের উপাচার্যকে জানাই উনি সংবাদ মাধ্যমকে যে কথাগুলো বলছেন সেগুলো আমাদের লিখিতভাবে জানান হোক। তাহলেই আজ সাড়ে বারোটায় যে বৈঠক হবে তাতে আমরা যোগদান করব। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত সেই চিঠি আসে নি।

এদিন বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ আগে রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে একটি চিঠি আসে। কিন্তু সেখানে আমাদের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করার বিষয়ে কোনও উল্লেখ ছিল না। ফলে আমরা উপাচার্যকে জানাই যতক্ষণ না চিঠি আসছে আমরা বৈঠকে অংশ নেব না। কিন্তু উপাচার্য তা করেন নি। আমি এই বিষয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। জানা যায়, সমগ্র বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। আমরা যেন অপেক্ষা করি।এই আশ্বাস তিনি আমাদের দেন।আমরা অপেক্ষা করছি কিন্তু বিশ্বজিত দিনের পর দিন একের পর এক শিক্ষকদের হেনস্থা করে যাচ্ছে।কিছু কতৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এইভাবে হেনস্থা করছে আর একটা করে ফুল দিয়ে ক্ষমা চেয়ে যাচ্ছে। দলের চাপে এসে দুঃখ প্রকাশ করছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওদের সাসপেন্ড করা হোক। এরা ক্যাম্পাসে থাকলে কোন দিনই সঠিক তদন্ত হবে না।”

এবিষয়ে ছাত্রনেতা বিশ্বজিত দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি kolkata 24×7 কে জানান, “শিক্ষকরা এমন দাবি করতেই পারেন। তাতে আমার কিছু করার নেই।” সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ইস্তফা গ্রহণ না করা সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন শিক্ষকরা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান সরস্বতী কেরকেটাকে জাত তুলে হেনস্থা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ জানাজানি হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। একসঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন বিভাগীয় প্রধান। ঘটনার শিকার শিক্ষকদের অধিকাংশের সন্দেহ, তাঁদের হেনস্থার পিছনে কাজ করেছে জাতিগত বিদ্বেষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে টালবাহানা করেন বলে দাবি করে সরব হন শিক্ষকদের একটি বড় অংশ। কালো ব্যাজ পরে উপাচার্যের দপ্তরে যান তাঁরা। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে ক্যাম্পাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তির পাদদেশে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড-পোস্টার হাতেও প্রতিবাদ জানান।