নয়াদিল্লি: লকডাউনের নিয়ন্ত্রণ আস্তে আস্তে শিথিল করায় এবার ভারতীয় অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শনিবার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস এমনটাই জানিয়েছেন। এদিন সপ্তম এসবিআই ব্যাংকিং অ্যান্ড ইকোনমিক কনক্লেভ-এ প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন আরবিআই গভর্নর।

সেখানে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থায়িত্ব উভয়ের দিকে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ যাতে আর্থিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত থাকে এবং এই সংকট কালে অর্থনীতিকে সাহায্য করা যায়।

প্রসঙ্গত শক্তিকান্ত দাসের এই মন্তব্যের কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার বক্তব্যে তেমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং গভীরভাবে ভারতের অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার করা হচ্ছে ও এই মহামারিতে দেশের গরীব মানুষদের জন্য ত্রাণের প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শনিবার দিন শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছেন, এই অতি মহামারীর ফলে ব্যাংকের অনুৎপাদক সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং মূলধনও মুছে যাবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, মধ্য মেয়াদের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাংকের নজরদারির এই সংকট কালে কতটা কার্যকরী তার মূল্যায়ন করা হবে।

এদিনের ভাষণে শক্তিকান্ত দাস মনে করিয়ে দেন, কোভিড-১৯ গত ১০০ বছরের সবচেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক সংকট। তারই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উৎপাদন কর্মক্ষেত্রে। এর আঘাতে বর্তমান বিশ্বে শ্রমিক পুঁজি চলাচল ব্যাহ মতত হচ্ছে। পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের পর থেকে একেবারে এই করোনা সংকট কাল পর্যন্ত বেশ কয়েক ধাপে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো রেট কমিয়ে দিয়েছে ১৩৫ বেসিস পয়েন্ট। এটা করা হয়েছে মূলত অর্থনীতির শ্লথ গতি লক্ষ্য করে এবং ওই সময় বৃদ্ধি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। নতুন ঝুঁকি কোথায় মাথাচাড়া দিচ্ছে সেটা চিহ্নিত করার জন্য রিজার্ভ ব্যাংক তার অফিসের বাইরে নজরদারি বাড়াচ্ছে বলে দাবি করেন শক্তিকান্ত দাস। তার অভিমত করোনা পরবর্তী সময়ে খুব সাবধানে কক্ষপথ অনুসরণ করতে হবে। তিনি এদিন জানান, পাঞ্জাব এন্ড মহারাষ্ট্র কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ব্যাপারে সমস্ত রকম স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলেই আরবিআই পদক্ষেপ করছে।এই সংকট কালে ভারতীয় কোম্পানিগুলি ভালো রকম সাড়া দিয়েছে বলে মনে করছেন শক্তিকান্ত দাস। প্রসঙ্গত, গোটা দুনিয়া জুড়েই করোনা মহামারী দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসের থাবা বসে ভারতেও। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে লকডাউন জারি করতে হয়। লকডাউনের জেরে অর্থনৈতিক কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে যায়। তারপর আস্তে আস্তে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা শুরু হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ