মুম্বই: কোনও আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থা নয়, এবার ভারতের জিডিপি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করল খোদ রিজার্ভ ব্যাংক। কারণ শুক্রবার অনির্ধারিত মানিটারি পলিসি কমিটি বৈঠকের পর তেমনই পূর্বাভাস দিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাস দুয়েক ধরে লক ডাউন চলায় অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। আর তারই প্রতিফলন মিলেছে রিজার্ভ ব্যাংকের এই পূর্বাভাসে।

রিজার্ভ ব্যাংক মনে করছে চলতি আর্থিক বছরে ২০২০-২১ সালে বৃদ্ধির বদলে সংকোচন হবে। তবে অর্থবর্ষে দ্বিতীয় অর্ধে কিছুটা অবস্থা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার ফলে ওইদিন রিজার্ভ ব্যাংকের এমন পূর্বাভাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। প্রসঙ্গত এর ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থা মুডিজ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, চার দশকের মধ্যে এই প্রথম ভারতের অর্থনীতি শূন্যের তলায় চলে যাবে।

এদিকে আবার শক্তিকান্ত দাস এই পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। করোনা অতি মহামারী কারণে দেশে মূল্যবৃদ্ধির রুখতে আমদানি শুল্ক যাতে বেশি না বাড়ে সে ব্যাপারে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। বছরের প্রথমার্ধে মাথাচাড়া দিলেও দ্বিতীয় অর্ধে কিছুটা শিথিল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত্ব তৃতীয় এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে মুদ্রাস্ফীতির হার ৪ শতাংশ ধরে রাখা যেতে পারে বলে পূর্বাভাস

রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের বক্তব্য, লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্ব বিধির‌ জেরে অনিশ্চয়তা দানা বাঁধছে। চাহিদা যোগানের স্বাভাবিক ভারসাম্য ব্যাহত হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্ব জুড়ে অতি মহামারী আকার ধারণ করেছে। আর করোনা ভাইরাস যাতে এদেশে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য ‌মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন। তখন থেকেই স্তব্ধ হয়ে গেছে এদেশের সব রকম অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের মেয়াদ। এখন দুমাস হতে চলল লকডাউন। তবে কিছু কিছু‌ ক্ষেত্রে লকডাউন শিথিল করে কাজকর্ম করার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।