বেঙ্গালুরু: শেষবার ২০১৮-১৯ অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারত যখন দ্বিপাক্ষিক ওয়ান-ডে সিরিজ জিতে ফিরেছিল, তখন নির্বাসনের কারণে বিপক্ষ দলে ছিলেন না ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথ। পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়াকে না পাওয়ায় ভারতের সিরিজ জয় অনেক সহজ হয়েছে, তখন এমনটাই বলেছিল সমালোচকেরা।

কিন্তু এই অস্ট্রেলিয়া দলে শুধু ওয়ার্নার-স্মিথের প্রত্যাবর্তনই ঘটেনি। অজি শিবির পেয়েছে ব্যাট হাতে তাঁদের নয়া সেনসেশন মার্নাস ল্যাবুশেনকে। তাই রবিবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সদ্য-সমাপ্ত ওয়ান-ডে সিরিজে ভারতের মধুর জয়কে কোনওমতেই সমালোচনায় বিঁধতে পারবে না সমালোচকেরা। ম্যাচ শেষে সমালোচকদের একহাত নিয়ে দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিরাটদের হেডস্যার রবি শাস্ত্রী।

পূর্ণশক্তির ব্যাটিং লাইন-আপের পাশাপাশি মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স সমৃদ্ধ অস্ট্রেলিয়ার বোলিং বিভাগও কম আক্রমণাত্মক নয়। এমন দলের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ে প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটে হারের পর টানা দু’ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ে আপ্লুত শাস্ত্রী। সিরিজ জয়ের পর রবিবার শাস্ত্রী বলেন, ‘সিরিজ জয়ের পথে ছেলেরা তাঁদের দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এবার অন্তত কেউ বলতে পারবে না আমরা কমজোর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছি। মুম্বইয়ে ১০ উইকেটে হার, তিনটি ম্যাচেই টস হারের পর এই সিরিজ জয় অনবদ্য।’

নির্ণায়ক ওয়ান-ডে’তে রবিবার অস্ট্রেলিয়ার ২৮৭ রানের ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে দুরন্ত শতরান হাঁকান রোহিত শর্মা। ডেপুটির ১১৯ রানের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৮৯ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস আসে বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে। শেষদিকে শ্রেয়স আইয়ারের মারকাটারি ৪৪ রানে জয় সহজ হয়ে যায় ভারতের। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই রোহিত এবং বিরাটের ব্যাটিংয়ের বাড়তি প্রশংসা কোচের গলায়। পাশাপাশি প্রথম দু’ম্যাচে ব্যর্থ শ্রেয়স এই ইনিংস থেকে অনেক আত্মবিশ্বাস পাবে, জানান শাস্ত্রী।

৩৫ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলা শ্রেয়স ম্যাচ শেষে স্বীকার করে নেন এখনও পর্যন্ত তাঁর ফেস করা সবচেয়ে কঠিন বোলিং আক্রমণভাগ এই অস্ট্রেলিয়া দলেরই। শ্রেয়সের কথায়, ‘আমি ওদের বোলিং এর আগে দেখেছি। কিন্তু সেটা ফেস করা সম্পূর্ন আলাদা বিষয়। আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার এই বোলিং আক্রমণভাগই সেরা। আর সেরা বোলিং অ্যাটাকের বিরুদ্ধে ভালো পারফরম্যান্স বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। আমার লক্ষ্য ছিল ম্যাচের শেষ অবধি ক্রিজে থাকা। পরিকল্পনা সফল হওয়ায় খুশি।’