ওয়েলিংটন: ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা রয়েছে নিউজিল্যান্ডের৷ ১৯৬৮ ডুনেডিনে টেস্ট জিতেছিল ভারত৷ বিদেশের মাটিতে এটাই ভারতের প্রথম টেস্ট জয়৷ শুধু তাই নয়, চার টেস্টের সিরিজে ৩-১ নিউজিল্যান্ডকে হারিয় সিরিজ জিতেছিল মনসুর আলি খান পতৌদির ভারত৷ তবে বিরাট কোহলিদের ‘হেডস্যার’ রবি শাস্ত্রী আবেগতাড়িত হওয়ার অন্য কারণ রয়েছে৷

আর ১৯৮১ সালে এই বেসিন রিজার্ভেই ভারতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল শাস্ত্রীর। ৩৯ বছর পর সেই মাঠে ফিরে স্মৃতিচারণায় রবি৷ তবে এবার টিম ইন্ডিয়ার কোচ হিসেবে৷ ক্যাপ্টেন কোহলিও এই মাঠের স্মৃতি বয়ে বেড়াবেন৷ শুক্রবার প্রথম নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ক্যাপ্টেন হিসেবে টেস্ট ম্যাচে টস করতে নামবেন বিরাট৷ স্বাভাবিকভাবেই ক্যাপ্টেন ও কোচ দু’জনেই ওয়েলিংটন টেস্ট শুরুর আগে নস্ট্যালজিক৷

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে স্মৃতিচারণায় শাস্ত্রী৷ ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের ওয়েবসাইটে চেতেশ্বর পূজারাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী বলেন, ‘একই মাঠ, একই ভেন্যু এবং একই বিপক্ষ৷ আবার এখানে ফিরে দারুণ লাগছে! ড্রেসিংরুমে গিয়ে দেখলাম, কিছুই বদলায়নি। এই বেসিন রিজার্ভেই ৩৯ বছর আগে ভারতীয় দলের হয়ে আমার অভিষেক হয়েছিল৷’

বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল শাস্ত্রীর৷ বেসিন রিজার্ভে অভিষেক ম্যাচে দুই ইনিংসে মোট ছ’টি উইকেট নিয়েছিলেন মুম্বইকর৷ প্রথম ইনিংসে ২৮ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৯টি মেডেন-সহ ৫৪ রান দিয়ে নিয়েছিলেন তিনটি উইকেট৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩ ওভারে ৯ রান খরচ করে তুলে নিয়েছিলেন ৩টি উইকেট৷ আর ব্যাট করতে নেমেছিলেন ১০ নম্বরে৷ তবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও বল হাতে সফল হয়েছিলে শাস্ত্রী৷ অকল্যান্ডে দ্বিতীয় টেস্টে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ভারতীয় দলের এই বাঁ-হাতি স্পিনার৷

ফের বেসিন রিজার্ভে ফিরে শাস্ত্রী বলেন, ‘এটা দুর্দান্ত একটা সফর। ৩৯ বছর পর এখানে ফিরে দারুণ লাগছে। তবে ভারতের জার্সি পরেই এখানে আবার ফিরব কখনও ভাবিনি। কিন্তু চার দশক আগের সেই দিনগুলো এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে৷ সেবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ আমি নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেছিলাম। বিমানবন্দরে আমাকে নিতে এসেছিলেন প্রয়াত বাপু নাদকার্নি। ভারতীয় দল তখন ওয়েলিংটনে হাই-কমিশনারের ওখানে ছিল। তবে আমাকে হোটেলে নিয়ে আসা হয়েছিল। আর দিলীপ (বেঙ্গসরকর) ছিল আমার রুম পার্টনার। পরের দিন সকালে সানি (সুনীল গাভাস্কর) টস হেরেছিল, আমরা ফিল্ডিং করতে নেমেছিলাম। আমাকে সোজা মাঠে নেমে পড়তে হয়েছিল৷’

অভিষেক টেস্ট নিয়ে শাস্ত্রী বলেন, ‘প্রথম টেস্টে নামার সময় যে কোনও ক্রিকেটারের মতো আমিও নার্ভাস ছিলাম। তবে বোলিংয়ে আমার নিশানা অভ্রান্ত ছিলাম। জেরেমি কোনির উইকেট নেওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল। এখানে ভিন্ন পরিবেশে বল করতে হয়েছিল৷ এত হাওয়া দিচ্ছিল যে খুব ঠান্ডা লাগচ্ছিল। পলি উমরিগড় তাঁর সোয়েটার আমাকে দিয়েছিলেন। চোখের সামনে দেখছিলাম হ্যাডলি, কেয়ার্নস, রাইট জেফ হাওয়ার্ডদের। গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ ছিল আমার ছেলেবেলার হিরো। তাই ওর সঙ্গে একটা সিরিজ খেলতে পারা ছিল দারুণ অনুভূতি৷’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।