স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভোটের লাইনে জোড়েই দেখা যেত তাঁদের৷ তবে পালটে গিয়েছে সম্পর্কের সমীকরণ৷ গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল৷ তাঁদের দুজনের মাঝে এসে দাঁড়িয়েছেন আরও এক চরিত্র৷ মাঝে এসে দাঁড়িয়েছে আদালত৷ তাই ছবিটা এখন একদম আলাদা৷

বিয়ের পর এই প্রথমবার একা ভোটের লাইনে দাঁড়ালেন রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ সঙ্গে ছেলে ও মেয়ে৷ তবে নেই শোভন৷ এই ছবিটাই বেশ নজরে এল বাকি ভোটারদের৷ নজর এড়াল না মিডিয়ারও৷ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার পরে সাংবাদিকদের সামনে এসে দাঁড়ালেন রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ হাসি মুখে হাত তুলে দেখালেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চিহ্ন৷

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ওপর ভরসা করেন, খোঁজখবর নেন৷ সাংবাদিকদের জানালেনে রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর দক্ষিণ কলকাতার বেহালা পশ্চিমে ভোট দেখার যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সর্ব শক্তি দিয়ে পালন করবেন বলে এদিন জানান রত্না৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসা তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায় বলেও রত্না মন্তব্য করেন৷

এদিকে শনিবারই রত্না জানান, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ভোট দিতে আসা নিয়ে তাঁর কোনও মাথা ব্যাথা নেই৷ কিন্তু যদি কোনও মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভোট দিতে আসেন তাহলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে৷ আর তার দায় নিতে হবে শোভনবাবুকেই৷ আগে থেকেই সেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন শোভন জায়া রত্না চট্টোপাধ্যায়৷

ভোট দিতে গিয়ে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেনস্তা হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রাক্তন মেয়র-মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে আশঙ্কার কথা লিখিত আকারে জানিয়েছেন মমতার প্রিয় কানন৷ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবকে লেখা চিঠিতে শোভন জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে খবর পেয়েছেন, ১৯ মে যখন তিনি ভোট দিতে যাবেন, তখন তাঁকে অকারণে হেনস্থা করার পরিকল্পনা করেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর সঙ্গীরা।

শোভনের আশঙ্কা প্রসঙ্গে শনিবার কলকাতা 24×7-কে রত্না বলেন, “ওনাকে আগে জিজ্ঞাসা করুন, আমাদের ২২ বছরের বিবাহিত জীবনে কোনওদিন আমি ওনার গায়ে হাত তুলেছি কিনা৷ তাছাড়া ভোটের দিন মমতাদি আমাকে প্রচুর কাজ দিয়েছেন৷ আমি সারাদিন এত ব্যস্ত থাকব যে কে কখন ভোট দিতে আসছেন তা আমার দেখার সময় থাকবে না৷’’

এরপরই রত্নাদেবী বলেন, ‘‘তবে উনি একা ভোট দিতে এলে আমার কোনও মাথাব্যাথা নেই৷ কিন্তু যদি আমি শুনি শোভনবাবু কোনও মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন তাহলে আগেই বলে দিচ্ছি একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই৷ আর এর জন্য দায়ী থাকবেন শোভনবাবু নিজে৷’’ রত্না চট্টোপাধ্যায়ের এই ইঙ্গিত যে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যেই তা স্পষ্ট৷