কলকাতাঃ রেশন কার্ডের সঙ্গেও আধার সংযুক্তিকরণ করতে হবে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। আর তা করার জন্যে ডিলারদের প্রশিক্ষণ দেবে খাদ্য দফতর। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে মহকুমা ভিত্তিক এই প্রশক্ষিণ পর্ব শুরু হচ্ছে। যা চলবে চলতি মাস অর্থাৎ অক্টোবরের ৩১ তারিখ পর্যন্ত। কীভাবে রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণ করা যাবে তা নিয়ে মূলত এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এই শিবিরে।

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, এখনকার রেশন গ্রাহকদের আধার সংযুক্তিকরণের কাজ নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ অভিযানে যে নতুন কার্ডগুলি হবে, সেগুলির আধারীকরণ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা যাবে বলে আশাবাদী খাদ্য দফতর। তবে অক্টোবরে রেশন ডিলারদের কাছে আধার সংযুক্তিকরণের কাজ হচ্ছে না।

রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার নম্বর সংযুক্তিকরণ করতে হবে। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে খাদ্য দফতর। রেশন ডিলারদের কাছে ই-পস মেশিনে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ ও আধার নম্বর নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ডিলাররা সেই কাজ এখনও শুরু করেননি বলে জানা গিয়েছে। পুজোর আগে রেশন ডিলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন খাদ্যমন্ত্রী। যে বৈঠকে দ্রুত কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণের কাজ দ্রুত শুরু করার কোথা বলা হয়। কিন্তু ডিলারদের তরফে জানানো হয় যে, কীভাবে তা করা সম্ভব তা তাঁদের জানা নেই। এজন্যে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের কোথা বলা হয়। সেই মতো আধার সংযুক্তিকরণের প্রশিক্ষণ শিবির চালু করা হচ্ছে।

খাদ্য দফতর ঠিক করেছে, মহকুমা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ শিবির হবে। কোনও বড় অডিটোরিয়ামে ডিলারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যেদিন যে এলাকার ডিলারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সেদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার রেশন দোকান বন্ধ থাকবে। আপাতত ঠিক হয়েছে, স্থানীয় অফিস থেকে এখন যে গ্রাহকরা নতুন রেশন কার্ড নেবেন, তাঁদের সেখানেই ই-পস যন্ত্রে আধার সংযুক্তিকরণের কাজ করা হবে।

এখন রাজ্যে ডিজিটাল রেশন কার্ড রয়েছে প্রায় ৯ কোটি ১০ লক্ষ। এই সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রথম পর্যায়ে ৯ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে বিশেষ শিবির খোলা হয়, তাতে নতুন কার্ডের জন্য প্রায় আট লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের শিবির হবে ৫ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের আধার সংযুক্তিকরণের কাজ শুধু রেশন অফিসে সম্ভব নয়। তাই রেশন ডিলারদের উপর খাদ্য দফতরকে নির্ভর করতে হচ্ছে। এমনটাই বাংলা এক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত আধার নথিভুক্তকরণের কাজ সম্পূর্ণ করতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে। যদিও প্রয়োজনে সময়সীমা ফের বাড়ানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।