স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপির রথযাত্রা মামলায় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷ সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে সরিয়ে রেখে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, সিঙ্ল বেঞ্চকেই আবার ওই মামলা শুনতে হবে৷

প্রধান বিচারপতির দেবাশিস করগুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার রায়ে জানিয়েছে, রাজ্যের গোয়েন্দা রিপোর্টগুলি সম্পূর্ণ খতিয়ে না দেখেই সিঙ্গল বেঞ্চ রথযাত্রার শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছিল৷ এক্ষেত্রে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর রায়কে খারিজ করে ফের তাঁর বেঞ্চেই(সিঙ্গল বেঞ্চ) মামলাকে আবার ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷

রায়ের পর বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘আদালতে রথের রায় নিয়ে ফুটবল খেলা চলছে৷ গণতন্ত্রে আমরা মানুষ ও আদালতের উপর ভরসা রাখছি৷ তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসাবে আমরা সভা চালিয়ে যাব৷ আদালত অনুমতি দিলেই রথযাত্রা হবে৷’

তৃণমূল মহাসচিব ও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় রথযাত্রা নিয়ে হাইকোর্টের জডিভিশন বেঞ্চের রায়তে স্বাগত জানান৷ তিনি বলেন, ‘আদালত উচিত রায় দিয়েছেন৷ রথের চাকা গড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে রাজ্যে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি৷ কিন্তু বাংলায় তা সফল হবে না৷’

গেরুয়া শিবিরের রথের চাকা কবে গড়াবে তা এখন অনিশ্চিৎ৷ শুক্রবারের পর শীতের ছুটি পড়ে যাচ্ছে হাইকোর্টে৷ ফলে সিঙ্গলবেঞ্চে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের আগে এই মামলার শুনানির কোনও সম্ভাবনা নেই৷ তাই বলাই যায়, শনিবার তারাপীঠ থেকে বিজেপির রথযাত্রার সূচনার যে কথা ছিল এদিন আদালতের রায়ের ফলে তা আর হচ্ছে না৷

এদিন শুনানির শুরুতেই এজিকে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, “আপনারা কেন রথ আটকাতে চাইছেন। কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ রয়েছে কি?” জবাবে এজি বলেন, “বৃস্পতিবার হলফনামা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দিতে দেওয়া হয়নি। যে গোয়েন্দা রিপোর্টের উপর ভরসা করেছি সেটাও দেখা হয়নি। সব রিপোর্ট দেখা হয়নি।

সওয়াল জবাবে পালটা বিজেপির আইনজীবী এস কে কাপুর বলেন, “আমরা শনিবার রথ বার করতে প্রস্তুত৷ কিন্তু রাজ্য যেহেতু কোন কিছু অ্যারেঞ্জ করেনি তাই কর্মসূচি এক সপ্তাহ পিছোন হতে পারে।” এরপরই রাজ্য পুলিশের তরফে সওয়াল করতে ওঠেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি৷ তাঁকে দেখেই ক্ষুব্ধ হন প্রধান বিচারপতি৷ আদালতের প্রশ্ন ছিল, রাজ্যের প্রদান আইন সম্পর্কীত বিষয়গুলির দেখভাল করছেন এজি৷ তাহলে আইনজীবী সিংভি কেন এই মামলার সঙ্গে যুক্ত হলেন?

আদালতকে এজি জানান, আইন শৃঙ্খলা দেখার ভার পুলিশের৷ তাঁকে সাহায্য করবেন সিংভি৷ পরে বলতে দেওয়া হয় সিংভিকে৷ পুলিশের পক্ষে আইনজীবী সিংভি বলেন, ‘মুভিং যাত্রা কখনই গণতান্ত্রিক অধিকার নয়। ভলভোতে লোক থাকে ৫৩ জন। বিজেপি জানিয়েছে ১৫০০ জন। প্রতি বাসের দূরত্ব যদি ৬মিটার হয় তাহলে তা কত দূর এগোবে সহজেই বোঝা যাচ্ছে৷ ৩১টি পুলিশ থানা রিপোর্ট দিয়ে জানিয়েছে সাম্প্রদায়িক হিংসা হতে পারে। তাহলে কী রথযাত্রা কর্মসূচির সময় পুলিশ আর কোন কাজ করবে না?’

এরপরই বিজেপির আইনজীবীকে বিচারপতি জিজ্ঞেস করেন, ‘হাইওয়ে আটকে মিছিলের অনুমতি কীভাবে দিল আদালত? কীভাবে গোয়েন্দা রিপোর্ট বাদ দিয়ে রায় হল?” এই বিষয়টির ব্যাখ্যা দরকার। উত্তরে আইনজীবী কাপুর বলেন, “ বিজেপি যাত্রার দিন পরিবর্তন করে দিতে চাইছে।”

এরপরই প্রধান বিচারপতির ডিভিশম বেঞ্চ রায়ে জানান, রাজ্যের গোয়েন্দা রিপোর্টগুলি সম্পূর্ণ খতিয়ে না দেখেই সিঙ্গল বেঞ্চ রথযাত্রার শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছিল৷ ফলে সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা ফের ফেরৎ পাঠান হল৷

বহস্পতিবার, রাজ্যের আর্জি খারিজ করে বিজেপিকে শর্তসাপেক্ষে রথযাত্রার অনুমতি দেয় বিচারপতি তপোব্রত চক্রোবর্তীর সিঙ্গল বেঞ্চে। বিজেপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে রথ বেরোবে, তার ১২ ঘণ্টা আগে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায় বিজেপিকে নিতে হবে।

রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আইন শৃঙ্খলা বজায় পর্যাপ্ত পুলিস কর্মী মোতায়েন করতে হবে প্রশাসনকে। এরপরই রাজ্য সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানায় রথযাত্রা বন্ধের জন্য৷