নিজস্ব প্রতিবেদন: বড়লোকের বিটি লো লম্বা লম্বা চুল…৷ বাংলার লোকশিল্পী রতন কাহারের এই গানটি নিজের একটি ব়্যাপে ব্যবহার করেছেন বাদশা। এই নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গানের কারণেই চুরির অভিযোগ ওঠে বাদশার বিরুদ্ধে। কিন্তু অবশেষে বাদশা এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলেন। বাদশা জানান তিনি জানতেন না এই গানটি লেখা রতন কাহারের। তার জন্য তিনি দুঃখিত। কিন্তু এখন তিনি গানের স্রষ্টা অর্থাৎ রতন কাহারকে সাহায্য করতে চান।

সম্প্রতি রতন কাহারের প্রতিক্রিয়াও জানা যায় এক সংবাদমাধ্যের প্রতিবেদন থেকে। লোকশিল্পী প্রথমে জানতেনও না তাঁর একটি গান হিন্দি ব়্যাপে ব্যবহৃত হয়েছে। অনেকেই ফোন করে তাঁকে জানায় বিষয়টি। রতন বাবু বলছেন, আমার কাছে ফোন আসতে থাকে। আমিই বলি আমাকে সেই গানটি শোনাতে।।

কিন্তু গানটি শোনার পরেও ৮৫ বছরের এই লোকশিল্পীর কিছুই করার ছিল না। তিনি বলছেন, আইনি লড়াই লড়ার মতো আর্থিক ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই যাঁরাই ফোন করছে তাদেরই বলছি তাঁরা যদি আমায় সাহায্য করতে পারে। অনেকেই কথা দিয়েছে করবে। যদিও আমি খুব একটা আশা করি না।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাদশা জানিয়েছেন এমন সুন্দর গান যিনি লিখেছেন তিনি নিশ্চয়ই বড় শিল্পী। আমি ওঁকে সাহায্য করতে চাই। এই প্রসঙ্গ রতন কাহার বলেছেন, ভালো লেগেছে তিনি কথাগুলি বলেছেন। তবে আমায় কেউ এখনও যোগাযোগ করেননি। আমার একটু পরিচিত হোক। সেটাই আমার জন্য বড় সাহায্য হবে।

আর্থিক সাহায্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দারিদ্রের সঙ্গেই বাস করছি। বাড়িতে যথেষ্ট টাকা নেই যে মেয়েকে বিয়ে দেব। তাই অর্থ দিয়ে কেউ সাহায্য় করলেও উপকারই হবে।

বাদশা তাঁর ব়্যাপে রতন কাহারের নাম উল্লেখ করেননি। পরে তিনি বলেছেন, তিনি জানতেনও না যে এই গানটি রতন কাহারের। কিন্তু এই গান আরও বহু জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু কেউই কোনও দিন তাঁর নাম উল্লেখ করেননি। এই প্রসঙ্গে রতন কাহার বলছেন, তখনকার সঙ্গীতশিল্পী স্বপ্না চক্রবর্তী গানটি রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু কখনওই আমায় কৃতজ্ঞতা জানাননি।

স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পরিবার রতন কাহারেরে। তিনি বলছেন, আমি ওঁদের সুখের জীবন দিতে পারিনি। আমি ভালো খারাপ, খুব খারাপ দিন দেখেছি। কিন্তু যাই হয়ে যাক, আমি গান বেঁধে যাব, গেয়ে যাব আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।

প্রসঙ্গত লাইভে এসে বাদশা বলেন, তিনি স্রষ্টার নাম জানার বহু চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোথাও রতন কাহারের নাম পাননি। এমনকী, ইউটিউবে বহু লোকে এই গান গেয়েছেন তাঁরাও রতন কাহারের নাম দেননি। একটি বাণিজ্যিক বাংলা ছবিরও উল্লেখ করেছেন তিনি। সেখানেও রতন কাহারের কোনও উল্লেখ নেই বলে জানান বাদশা। প্রত্যেক জায়গায় শুধু বাংলা লোকগান হিসেবেই লেখা। এখন তিনি বাংলার লোকশিল্পীকে যে কোনও রকমের সাহায্য করতে ইচ্ছুক বলে জানান।