সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বাইরে তাঁর বেশবাস সরকারি চাকরিজীবী। ভদ্রলোক। কখনও স্কুলে শিক্ষকতা তো কখনও বন দফতরে। কিন্তু গোপনে তিনি যে ব্রিটিশদের ভয়ানক বিপ্লবী ছিলেন ব্রিটিশরা তা জানত। কিন্তু জেনেও তাঁকে কোনওদিন ছুঁতে পারেনি। এমন এমন সব ছদ্মবেশ নিতেন যে তা ব্রিটিশদের ধারনার বাইরে হয়ে যেত। যেমন জাপানে তিনি রবীন্দ্রনাথের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে ছিলেন। এবার ভাবুন……কে ছোঁবে বিশ্বকবির পি.এ’কে? তাও ইতিমধ্যেই রবীন্দ্রনাথ নোবেল পেয়ে গিয়েছেন।

ঘটনা কেমন? ১৯১৫ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে সন্ন্যাসীর বেশে কলকাতাগামী ট্রেনে জাপানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। স্টেশনে স্টেশনে তাঁর ছবিসহ পোস্টার লাগানো থাকায় রাসবিহারী বসু নানা কৌশল অবলম্বন করে ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করে জাপানে পৌঁছান। ১৯১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের পত্রপত্রিকায় এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাপান ভ্রমণে যাচ্ছেন এরকম সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সেটা দেখে রাসবিহারী বসু জাপানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং রবীন্দ্রনাথের সচিব হিসেবে (মতান্তরে আত্মীয়) পি. এন. ঠাকুর (প্রিয়নাথ ঠাকুর) নাম ধরে জাপানে বসবাস শুরু করেন।

এরপর যা হয়েছে তা ইতিহাস। তবে অনেকটাই লুকোনো। সুভাষের চাপে কোথাও হারিয়ে যায় রাসবিহারীর ত্যাগ , লড়াই। জাপানে এসে তিনি জানতে পারেন চীনা জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী-নেতা ড. সান-ইয়াৎ সেন জাপানে অবস্থান করছেন। তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সান-ইয়াৎ সেন এবং প্যান্-এশিয়ানিজমের অন্যতম প্রধান উদ্গাতা তোয়ামা মিৎসুরুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। গুরু তোয়ামা এই বিপ্লবীকে জাপানে আশ্রয় এবং সর্বপ্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এভাবেই বিদেশে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর নতুন রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।

ভারতীয়দেরকে সংঘবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে ১৯২১ সালে রাসবিহারী বসু জাপানে সর্বপ্রথম ‘ভারতীয় স্বাধীনতা সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই সংঘের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালে ইংরেজ-বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন বৃটিশদের পক্ষে অসহনীয় হয়ে উঠে। কাজেই তারা সুযোগ খুঁজছিল কিভাবে পলাতক বিপ্লবীদেরকে গ্রেফতার করা যায়। রাসবিহারী বসু জাপানে বিয়ে করে জাপানি নাগরিকত্ব গ্রহণ করার ফলে সে সুযোগ নস্যাৎ হয়।

১৯৪১ সালে বহু বছরের পরাধীন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতবর্ষের মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাসবিহারী বসু বিশ্বস্ত এম. এন. রায়কে মাঞ্চুরিয়াতে দূত হিসেবে পাঠিয়ে ভারতীয়দেরকে সংগঠিত করার দায়িত্ব দেন। ওই বছর রাসবিহারী বসুর উদ্যোগে টোকিও, য়োকোহামা, ওসাকা, কোবে, নাগাসাকি প্রভৃতি জায়গায় বসবাসরত ৭০ জনেরও বেশি ভারতীয় জড়ো হয়ে ‘ভারতীয় স্বাধীনতা সংঘ’র মহাসভা আহবান করেন এবং লীগের পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৪২ সালের জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখে রাসবিহারী বসুর উদ্যোগে টোকিওতে ‘ভারতীয় স্বাধীনতা সংঘ’র আয়োজনে একটি মহাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শিরোনাম ছিল: ‘আমেরিকা-বৃটেন ধ্বংস করো।’ সম্মেলনের পর রাসবিহারী বসু রাজকীয় সেনা বাহিনীর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষকে ভারতীয় স্বাধীনতা অর্জনের উপায় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য অনুরোধ জানান।

১৯৪৩ সালের ৪-৭ জুলাই সিঙ্গাপুরের মহাএশিয়া মিলনায়তনে ‘ভারতীয় স্বাধীনতা সংঘ’র প্রধান নেতৃবৃন্দের মহাসভা অনুষ্ঠিত হয়। শারীরিক অসুস্থতা এবং বার্ধক্যজনিত কারণে এই মহাসভায় রাসবিহারী বসু ‘ভারতীয় স্বাধীনতা সংঘ’র নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুভাষচন্দ্র বসুকে স্থলাভিষিক্ত করেন। এ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ গঠিত হয়। বস্তুত ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ গঠনে রাসবিহারি বসুর অবদান অপরিসীম। পরে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে মিলিত হন। ফৌজের কার্যাবলী খুব দ্রুত ভারতব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে। তখন রাসবিহারি বসু খুবই আনন্দিত হন। কিন্তু যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত অসুস্থ রাসবিহারী বসু টোকিওর নিজগৃহে মারা যান। মৃত্যুর পূর্বে রাসবিহারী বসুকে জাপান সরকার সম্মানসূচক ‘সেকেন্ড অর্ডার অব দি মেরিট অব দি রাইজিং সান’ খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র : প্রতাপ চন্দ্র সাহা (ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য)

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।