মুম্বই: একের পর এক বিতর্ক বিগ-বসের ঘরে। এবার এই রিয়েলিটি শোয়ের সম্প্রচার চলাকালীন নাকি অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লা অশ্লীলভাবে অভিনেত্রী রেশমি স্পর্শ করেছেন। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেশমি দেশাইয়ের। আর তাঁর এই অভিযোগ ঘিরে সরগরম বিগ-বসের ঘর। অন্যদিকে একদিকে যখন অভিনেত্রীর এমন বিস্ফোরক অভিযোগ অন্যদিকে তখন অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লা এবং রেশমি দেশাইয়ের একটি ঘনিষ্ট মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। জানা গিয়েছে, ‘দিল সে দিল তক’ নামে একটি মেগা ধারাবাহিকের একটি ক্লিপিংস সম্প্রতি ভাইরাল হল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

অভিনেত্রী রেশমির অভিযোগ, শো-চলাকালীন বিগ-বসের ঘরে অশ্লীলভাবে তাঁকে সহঅভিনেতা স্পর্শ করে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীর কপালে আবার কখনও অভিনেত্রী রেশমির চোখে চুম্বন করতে দেখা যাচ্ছে সিদ্ধার্থকে। যদিও তা সিরিয়ালের জন্যেই করা হয়েছে। কিন্তু বিগ বসের ঘরে এই অভিযোগ সামনে আসতেই এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও এই বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি অভিনেত্রী। অন্যদিকে, গাজিয়াবাদের বিজেপি বিধায়ক এই টিভি রিয়্যালিটি শো-এর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আবেদন জানিয়েছেন।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বিজেপি বিধায়ক নন্দকিশোর গুজ্জার এই দাবি করেছেন। তথ্য ও সম্প্রচারণ মন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকরের কাছে চিঠি লিখে বিগ বস ১৩ বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন করেছেন।

চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, এই বিগ বস ১৩ অশালীনতা প্রদর্শন করছে। এই শো-এর কনটেন্ট এতই অশ্লীল যে পরিবারের সকলে একসঙ্গে বসে দেখার যোগ্য় নয়। এই অভিযোগেই বিগ বস ১৩-র সম্প্রচার বন্ধ করার আবেদন করেছেন তিনি।

তিনি চিঠিতে আরও লিখেছেন, এই শোয়ে এমন কিছু আপত্তিকর দৃশ্য রয়েছে যা দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধে আঘাত হানছে। ভিন্ন গোষ্ঠী থেকে আসা পুরুষ ও মহিলাকে বেড পার্টনার বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি বিধায়ক এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, একদিকে নরেন্দ্র মোদী ভারতের মান মর্যাদা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে আর অন্যদিকে এই ধরনের শো দেশের সংস্কৃতি নষ্ট করছে।

টেলিভিশনে বিগ বসের মতো শো দেখানোর বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সেনসর বোর্ডের দাবি করেছেন তিনি। তিনি বলছেন, শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্করাও টিভি দেখে। তারা সহজেই এই অশ্লীল শো দেখতে পাচ্ছে। আরও বড় বিষয় হল এই শো ইন্টারনেটেও দেখা যাচ্ছে। তবে শুধু নন্দকিশোর গুজ্জারই নয়। ব্রাহ্মিণ মহাসভাও এই শো নিষিদ্ধ করার দাবি করেছে।