কলকাতা- প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রাপ্য সম্মান দেবেন। লকডাউনের মধ্যেও সেই প্রতিশ্রুতি থেকে পিছপা হলেন না র‌্যাপার বাদশা। লকডাউনের মধ্যেই বাংলার লোকশিল্পী রতন কাহারের হাতে পৌঁছে দিলেন টাকা। রতন কাহারের বড় লোকের বেটি লো গানটি ব্যবহার করেছিলেন নিজের র‌্যাপে। আর তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ ওঠে। লাইভে এসে বলেন, তিনি জানতেন না গানটি রতন কাহারের। সঙ্গে জানান তিনি লোকশিল্পীকে সাহায্য করতে চান। যেমন কথা, তেমন কাজ।

সোমবার রতন কাহারের অ্যাকাউন্টে পাঁচ লক্ষ টাকা পাঠায় বাদশার টিম। টাকা পেয়ে খুশি প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পীও। ফোনে তিনি ধন্যবাদও জানিয়েছেন বাদশাকে। তবে এখানেই শেষ নয়। লকডাউন শেষ হলে রতন কাহারের বাড়ি শিউড়িতে গিয়ে তিনি দেখাও করবেন বলেছেন তিনি। প্রথমে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরে রতন কাহার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বলেন, তিনি প্রথমে জানতেনও না তাঁর একটি গান হিন্দি ব়্যাপে ব্যবহৃত হয়েছে। অনেকেই ফোন করে তাঁকে জানায় বিষয়টি।

রতন বাবু বলেছিলেন, আমার কাছে ফোন আসতে থাকে। আমিই বলি আমাকে সেই গানটি শোনাতে।।কিন্তু গানটি শোনার পরেও ৮৫ বছরের এই লোকশিল্পীর কিছুই করার ছিল না। তিনি বলছেন, আইনি লড়াই লড়ার মতো আর্থিক ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই যাঁরাই ফোন করছে তাদেরই বলছি তাঁরা যদি আমায় সাহায্য করতে পারে। অনেকেই কথা দিয়েছে করবে। যদিও আমি খুব একটা আশা করি না। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাদশা জানিয়েছেন এমন সুন্দর গান যিনি লিখেছেন তিনি নিশ্চয়ই বড় শিল্পী। আমি ওঁকে সাহায্য করতে চাই। বাদশা তাঁর ব়্যাপে রতন কাহারের নাম উল্লেখ করেননি।

লাইভে তিনি বলেছেন, তিনি জানতেনও না যে এই গানটি রতন কাহারের। কিন্তু এই গান আরও বহু জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু কেউই কোনও দিন তাঁর নাম উল্লেখ করেননি। এই প্রসঙ্গে রতন কাহারও বলেছেন, তখনকার সঙ্গীতশিল্পী স্বপ্না চক্রবর্তী গানটি রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু কখনওই আমায় কৃতজ্ঞতা জানাননি। অবশেষে সেই প্রাপ্য মূল্য পাচ্ছেন বাংলার এই লোকশিল্পী। বাদশাও অপেক্ষা করে রয়েছেন তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলে।