স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রেড জোনে শুরু হতে চলেছে র‌্যাপিড টেস্ট। তবে টেস্টের ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে জানানো হবে না। স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশিকা দিয়ে একথা জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

রাজ্যজুড়ে ২৮টি জেলার ১৪টি কেন্দ্রে এবার ব্যাপক হারে ব়্যাপিড টেস্ট শুরু হবে। তার আগেই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য দফতর। বিজ্ঞপ্তিতে লেখা আছে, যাতে করোনা নিয়ে বা সংক্রমণ নিয়ে কারও মধ্যে অযথা আতঙ্ক বা অবিশ্বাস না ছড়িয়ে পড়ে, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডি দিয়ে সমস্ত হাসপাতাল ও পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যেন ওই ঠিকানায় জানানো হয় টেস্টের ফলাফল।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, রেড জোনগুলিতে কতটা সংক্রমণ ছড়িয়েছে তা পরিমাপ করার জন্য প্রাথমিক ভাবে এই র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হবে। তবে অন্য জায়গাতেও যেখানে সংক্রমণের ঘটনা তেমন ভাবে হয়নি সেখানেও পরবর্তীতে র‌্যাপিড টেস্ট করা হবে।

অনেকে মনে করছেন, যদি প্রতিটা হাসপাতাল বা পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে আলাদা আলাদা করে করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলতে শুরু করে, তাহলে গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা করছে রাজ্য সরকার। তাই দ্রুত ফলাফল জানাতে চাইছে না।

তবে স্বাস্থ্য কর্তাদের যুক্তি, এই অ্যান্টিবডি টেস্ট করে পজ়িটিভ ফল এলেই অনেকে ভেবে নিতে পারেন তাঁর করোনা হয়েছে। যা সব সময় সত্যি না-ও হতে পারে। এতে বিড়ম্বনা আরও বাড়বে বই কমবে না। সেই কারণেই ব়্যাপিড টেস্টের ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করা হবে না।করোনাভাইরাসের উপস্থিতি আছে কি নেই সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পিসিআর টেস্ট-ই করতে হবে।

যে ১৪টি সেন্টারে এই ব়্যাপিড টেস্ট হবে, সেগুলি হল: কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ, মালদহ মেডিক্যাল কলেজ, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, দেবেন মাহাতো পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ, আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং এসএসকেএম হাসপাতাল।

ব়্যাপিড টেস্ট কী?

এটি কখনই কোভিড-১৯ নির্ণায়ক কোনও টেস্ট নয়। এই পদ্ধতি হল সম্ভাব্য কোভিড আক্রান্ত খোঁজার একটি বাছাই পর্ব।

যে কোনও ভাইরাস শরীরে আক্রমণ করলে, মানুষের দেহে তার প্রতিরোধী ক্ষমতা, বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। চিকিৎসকদের দাবি, যে কোনও রেড জোনের বাসিন্দার ব়্যাপিড টেস্ট করলে জানা যাবে, সেই ব্যক্তির শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একটি বিশেষ অ্যান্টিবডির অস্তিত্ব পাওয়া গেলে ধরে নেওয়া হবে সদ্য ওই ব্যাক্তির শরীরে সংক্রমণ হয়েছে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV