নয়াদিল্লি: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনার পরেই এক সপ্তাহের জন্য খুঁজে পাওয়া যায় নি উত্তরপ্রদেশের নির্যাতিতা ছাত্রীটিকে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে মেয়েটি নিজের প্রানের ভয়ে এবং পরিবারের বিপদের ভয়ে আত্মগোপন করে রয়েছে। তেইশ বছর বয়সী ছাত্রীটি বাহাত্তর বছর বয়সী এই প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন বিগত এক বছর ধরে ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থার।

বারো পাতার অভিযোগপত্র তিনি দিল্লির লোধী পুলিশ স্টেশনে জমা দেন বৃহস্পতিবার। নির্যাতিতা ছাত্রীটি আরও জানান উত্তরপ্রদেশের পুলিশের উপরে তার কোন আস্থা নেই এবং তার পরিবার শাহাজানপুর জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে কোন রকম সহযোগিতা পাননি। সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে আসার আগে নিজের মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন করে ছাত্রীটি চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে এক বছর ধরে ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন।

অভিযুক্ত ছাত্রীটি গত ২৪ এ অগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিল । নিখোঁজ হওয়ার একদিন পরেই ছাত্রীটি একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযুক্ত এই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ভয় দেখানো এবং হয়রানি করার অভিযোগ আনেন৷ সেই ভিডিও তে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে সাহায্য চাইতে দেখা যায় ছাত্রীটিকে।

মেয়েটির নিখোঁজ হলে তার বাবা উত্তর প্রদেশের পুলিশের কাছে চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। যদিও অভিযুক্ত এই প্রাক্তন মন্ত্রী এই অভিযোগ কে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টে তোলার আগে ৩০ অগস্ট রাজস্থানে তাকে অনুসরন করা হয়। আদালতে মেয়েটি বিচারপতিকে জানান নিজেকে রক্ষা করার জন্যই সে চলে গিয়েছিল। সুপ্রীম কোর্ট বিশেষ তদন্তকারী দল ( সিট) গঠন করে যারা এই নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তেসরা সেপ্টেম্বর থেকে তদন্ত শুরু করে।

নির্যাতিতা তরুনী জানায় রবিবার প্রায় এগারো ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে এবং তিনি সব কিছু বলেন তদন্তকারী অফিসারদের। তারপরেও চিন্ময়ানন্দকে গ্রেফতার করা হয় না। আরও জানান সাহাজানপুর পুলিশ স্টেশনের আধিকারিকেরাও ধর্ষণের অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন।

আজ সিটের তদন্তকারী অফিসারেরা এক বিচারপতির উপস্থিতিতে নির্যাতিতা ছাত্রীর হস্টেলে যান প্রমান জোগাড় করতে। প্রাথমিক ভাবে নির্যাতিতা তরুনী চিন্ময়ানন্দের নাম নেয় নি। তার বাবা অভিযোগপত্রে রাজনৈতিক নেতার কথা উল্লেখ করেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার ফলে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ঝড় তোলার পরে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে অপহরন করা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়।

প্রাক্তন এই বিজেপি নেতার আইনজীবি ওম সিং ২রা সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বামী চিন্ময়ানন্দ এই অভিযোগ থেকে পালান নি, কিছু ধর্মীয় কাজে এই মুহূর্তে ব্যস্ত। কিন্তু দিল্লি পুলিশ যখনই ডাকবে তিনি হাজির হবেন ও বলেও জানিয়েছেন। এই বিজেপি নেতার শাহাজানপুরে নিজের আশ্রম এবং পাঁচটি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও তিনি হরিদ্বার এবং হৃষীকেশে আশ্রম চালান।