স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ৭২ দিনের লড়াই চালিয়েও শেষ রক্ষা হল না বীরভূমের কাঁকড়তলার সেই ধর্ষিতা গৃহবধূর। শুক্রবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিসিইউতে তাঁর মৃত্যু হল।

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল ওই গৃহবধূর। তাঁর ৮ বছরের ছেলে এবং ৩ বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস আগে কন্যা সন্তানকে দুবরাজপুর হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পথে বাস থেকে কন্যাসন্তান-সহ তাঁকে নামিয়ে পূর্ব পরিচিত এক যুবক তাঁদের অন্যত্র নিয়ে যায়। এরপর ওই বধূকে ধর্ষণ করে।

আরও পড়ুন: শিকড়ের টানে রূপসী বাংলা থিম বড়শুলের জাগরণী পুজোয়

এরপর পালিয়ে যায় ওই যুবক। স্থানীয় মানুষজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই বধূ ও তাঁর কন্যাসন্তানকে উদ্ধার করে বীরভূমের সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরের দিন বাড়ির লোকজন অচৈতন্য অবস্থায় ওই বধূ ও শিশু কন্যাটিকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে খুঁজে পান। শিশু কন্যাটি সুস্থ হয়ে গেলেও অত্যাচারের জেরে বাকরুদ্ধ হয়ে যান নির্যাতিতাত।

এরপর তাঁকে প্রায় আড়াই মাস আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৭২দিন ভর্তি থাকার পর শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: চিনে সমলিঙ্গের মাধ্যমে বাচ্চার জম্ম দেওয়া সম্ভব হল

মৃতের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে পুলিশ গ্রেফতারও করে। বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও ওই বধূর মৃত্যুতে গোটা পরিবারে রীতিমতো হতাশা নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই সময় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্য জুড়েই। ওই গৃহবধূর শরীরে শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন মিললেও তাঁকে ধর্ষণ করা হয়নি বলেই প্রশাসনিকভাবে জানানো হয়েছিল। অপরদিকে, শুক্রবার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ওই বধূর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন মৃতের পরিবারের লোকজন।

আরও পড়ুন: অন্ধকারের এক ঘণ্টা কেমন কাটল পটুয়াপাড়ার?