ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ারঃ    ভারত সীমান্তের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এলাকায় এক ভুটানি মহিলা ধর্ষণের শিকার৷ একইসঙ্গে ধর্ষণ করা হয়েছে এক নাবালিকাকে৷ ঘটনার কেন্দ্র আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁ সীমান্ত শহর৷ এখানেই জোড়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুটি পৃথক ঘটনায় ধর্ষিতা হয়েছেন ভুটানের নাগরিক এক যুবতী৷ অপর ঘটনায় ধর্ষণের শিকার একটি নয় বছরের ভারতীয় নাবালিকা।

প্রথম ঘটনায় অভিযুক্ত ফেরার হলেও, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রতিবেশী প্রৌঢ়কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে বিদেশিনী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পরিবহণকর্মী মণি কুমার বিশ্বকর্মা৷ অভিযুক্ত গ্রেফতারি এড়াতে সীমান্ত পেরিয়ে ভুটানে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তার খোঁজে ভুটানে তদন্ত করতে গিয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার পুলিশ৷ নির্যাতিতাদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলায় উদ্বিগ্ন পুলিশ মহল।সঙ্গে আতঙ্কিত মানবাধিকার সংগঠনগুলি।

অভিযুক্তের হদিশ পেতে ভুটানের সীমান্ত শহর ফুন্টশোলিং পুলিশের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ কর্তারা। ভুটানি যুবতী ধর্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট ভুটান অভিবাসন দফতরকে জানানো হয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের তরফে। কাজের সন্ধানে ভারতে আসা ভুটানের যুবতীর ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ ভুটানের পুলিশ কর্তারা।

বুধবার ভোরের ঘটনা৷ অভিযোগ, দুই যুবতীর জয়গাঁর ভাড়া বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকে মনিকুমার বিশ্বকর্মা। ঘরে ঢুকে খুন করার ভয় দেখিয়ে একজনকে ধর্ষণ করে৷ পরে জয়গাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওই ভুটানি যুবতী। জানা গিয়েছে, তাঁরা ভুটানের সামচি জেলার বাসিন্দা। ভুটানে কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় শ্রমিকদের একটি সংস্থায় ক্লার্কের কাজ করেন ভুটানের ওই দুই যুবতী।নির্যাতিতা জানিয়েছেন ” আমার সাথে যা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেই কারণে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।আমি সুবিচার চাই।কারণ পেটের দায়ে ভিটেমাটি ছেড়ে এতদূরে পড়ে আছি।কিন্তু এমন ঘটনার যে সাক্ষী হতে হবে তা কল্পনাতেও আনিনি।”

বৃহস্পতিবার ভুটানের ওই যুবতীর গোপন জবানবন্দি আলিপুরদুয়ার আদালতে রেকর্ড করিয়েছে পুলিশ।ভুটান অভিবাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন ” আমরা গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছি।প্রতিবেশী দেশে আমাদের নাগরিকদের যে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে তা প্রমাণিত হয়ে গেল।তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে বিষয়টি দিল্লির দরবারে লিখিত আকারে জানানো হবে।” জয়গাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গণেশ বিশ্বাস জানিয়েছেন “আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছি।ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাতে দ্রুত গ্রেফতার করা যায় সেই বিষয়ে পুলিশি তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।নির্যাতিতা বিদেশিনী ও তাঁর বোনের পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে জয়গাঁর ভার্নোবাড়ি চা বাগানের এক নয় বৎসরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গল ভক্ত(৪৬) নামের এক প্রৌঢ়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আবার ফালাকাটার কড়াইবাড়িতে এক মূক ও বধির যুবতীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রদীপ বর্মণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আলিপুরদুয়ারের মানবাধিকার কর্মী রাতুল বিশ্বাস জানিয়েছেন “পুলিশি তৎপরতা সত্ত্বেও জেলায় প্রায় নিত্যদিন যে ভাবে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে তা যথেষ্ট উদ্বেগের।জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সবাইকে মিলিত ভাবে ঝাঁপাতে হবে।না হলে এই সামাজিক ব্যাধির মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।”