স্টাফ রিপোর্টর, বর্ধমান : নির্ভয়া কাণ্ডের অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজা নিয়ে চলছে দোলাচল। এরই মাঝে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বর্ধমানের পকসো আদালত। পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা না দিলে তাকে আরও ২ বছর জেল খাটতে হবে। এছাড়াও প্রতারণার জন্য ৬ মাস জেল ও ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের জেল এবং ভীতি প্রদর্শনের জন্য এক বছর কারাবাস ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সব ক’টি সাজা একসঙ্গে চলবে।

জরিমানার টাকা আদায় হলে তার অর্ধেক কিশোরীকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিশোরীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। জেলা আইনি পরিষেবা কেন্দ্রকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

শুক্রবার পকসো আদালতের বিচারক সৈয়দ নিয়াজউদ্দিন আজাদ এই সাজা ঘোষণা করেছেন। সাজাপ্রাপ্তের নাম সাইফুল খান। মঙ্গলকোট থানার ঠ্যাঙাপাড়ায় তার বাড়ি। রায়ে বিচারক জানিয়েছেন, মামলার নথি থেকে জানা যাচ্ছে, ঘটনার সময় কিশোরীর বয়স ছিল ১৫। সেই সময় সে নবম শ্রেণিতে পড়ত। তার মা ও ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। বাবা দিনমজুর। কিশোরীর একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ঘটনার জন্য কিশোরী পড়াশুনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সে কারণে ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া জরুরি। যে মানসিক এবং শারীরিক ট্রমা তাকে ভোগ করতে হয়েছে তার জন্য এবং কিশোরী ও তার কন্যা সন্তানের পুনর্বাসনের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া জরুরি। সাজাপ্রাপ্তের পরিবার অবশ্য রায়ে খুশি নয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানানো হয়েছে পরিবারের তরফে।

কেসের সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষাল বলেন, ২০১৩ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। বাড়িতে কল না থাকায় বাইরে থেকে জল আনতে যায় বছর পনেরোর ওই কিশোরী। জল নিয়ে ফেরার সময় সাইফুল রাস্তায় তাকে আটকায়। কিশোরী চিৎকার শুরু করলে তার মুখ গামছা দিয়ে চেপে ধরে সে। এরপর টানতে টানতে কিশোরীকে শিশুবাগানে নিয়ে গিয়ে সাইফুল ধর্ষণ করে। ঘটনার কথা কাউকে না জানানোর জন্য কিশোরীকে বলে সে। অন্যথায় কিশোরীকে খুন করা হবে বলে শাসায় সে। এরপর কিশোরীকে সে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। তাতে আশ্বস্ত হয়ে কিশোরী পুলিসে অভিযোগ করেনি।

বেশ কয়েকবার সহবাসের ফলে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সাইফুলকে বিয়ের জন্য বলে সে। কিন্তু, কিশোরীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে সাইফুল। কিশোরীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সে। ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় কিশোরী। পরেরদিন কিশোরীর বাবা মঙ্গলকোট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ধর্ষণ এবং পকসো অ্যাক্টের ৭ ও ৮ ধারায় মামলা রুজু করে পুলিস। ১০ ফেব্রুয়ারি পুলিস সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে। কিশোরীর গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করানো হয়। পিতৃ পরিচয় জানতে কিশোরীর কন্যা সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করা হয়। সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবরেটারির পরীক্ষায় সাইফুলই কন্যা সন্তানের বাবা বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত সম্পূর্ণ করে ২০১৪ সালের ২৩ জুন চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার গৌতম মণ্ডল। বিচার চলাকালীন জামিন পায় সাইফুল। বুধবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নিের্দশ দেন বিচারক.