বর্ধমান:  ঠাণ্ডা পানীয় খাইয়ে অচেতন করে যুবতীকে ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের ভাইকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান মহিলা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম শেখ নাদিম আলি। কলকাতার পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকায় তার বাড়ি। রবিবার রাতে বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সোমবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য ধৃতকে ৫ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতকে ৪ দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা। যুবতীর গোপন জবানবন্দি আগেই নথিভূক্ত করিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্ধমান শহরের রাধানগরপাড়ায় বছর পঁচিশের ওই যুবতীর বাড়ি। তাঁর স্বামী বেকার। মাস ছয়েক আগে ফেসবুকে নাদিমের দাদা শেখ আসিফ আলির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কলকাতায় তার ব্যাগ তৈরির কারখানা রয়েছে বলে জানায় আসিফ। সেখানে কাজ করার জন্য যুবতীকে প্রস্তাব দেয় সে। যুবতী তাতে রাজি হয়ে যান। গত ২৫ নভেম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্র নিয়ে তিনি কলকাতায় যান। আসিফ তাঁকে কারখানায় নিয়ে যায়। সেখানে যুবতীকে ঠাণ্ডা পানীয় খেতে দেওয়া হয়। ঠাণ্ডা পানীয় খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন।

এরপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন যুবতী। ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও রেকির্ডং করা হয় বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পরেরদিন জ্ঞান ফিরলে নিজেকে নগ্ন অবস্থায় দেখেন যুবতী। তাঁর এই অবস্থা করার কারণ জানতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। কোনও রকমে নিজেকে মুক্ত করে সেখান থেকে বাড়ি ফেরেন যুবতী।

এরপর ২৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আসিফ, তার ভাই ও কয়েকজন গুণ্ডা প্রকৃতির লোক যুবতীর বাড়িতে আসে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জানিয়েছে নির্জাতিতা। যুবতীকে নানাভাবে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি সেখানেও বন্দুক দেখিয়ে পরিবারের লোকজনকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ফের তাঁকে মারধর করা হয় বলেও পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছে সে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। ঘটনার কথা জানিয়ে তিনি নিজেই মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ