ওষুধের সাইড এফেক্ট অবশ্যই সবসময় গুরুত্ব দেওয়ার মত বিষয়। তবে বহুল প্রচলিত অ্যাসিডের ওষুধ রেনিটিডিনের যে প্রভাবের কথা প্রকাশ্যে এসেছে সম্প্রতি। আর তার থেকেই ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই অনেক দেশে এই গ্রুপের ওষুধের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রেনিটিডিনের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা-পোড়া বা ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে প্রচলিত রোগটির জন্য যে এই গ্রুপের ওষুধ অনেকেই০ নিয়মিত খেয়ে থাকেন। সেই রেনিটিডিনের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে, এমন আশঙ্কায় বিশ্বের অনেক দেশে বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে ওষুধ। ভারতে এই গ্রুপের ওষুধ র‍্যানট্যাক, জিনট্যাক, অ্যাসিলক নামে বিক্রি করে বিভিন্ন সংস্থা।

এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশও। রবিবার বাংলাদেশ এই ওষুধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে এই ওষুধটি মধ্যে সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান আছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সংস্থা এফডিএ এই বিষয়ে এক সতর্কতা জারি করার পরই এই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। আমেরিকার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিভিএস এরই মধ্যে এটির বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।

ক্যানাডা এবং ফ্রান্স এরই মধ্যে জ্যানটাক নামে বিক্রি হওয়া রেনিটিডিন বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এবং এসব দেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ওষুধটি নিয়ে তাত্‍ক্ষণিকভাবে কোনও ঝুঁকি নেই। তবে তারা চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিয়ে রেনিটিডিনের বিকল্প হিসেবে অন্য কোন ওষুধ খেতে বলছেন।

এফডিএ এবং ইউরোপের ‘ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) গত ১৩ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, রেনিটিডিন ওষধটিতে ‘এন-নাইট্রোসোডিমিথাইলামিনের (এনডিএমএ) উপস্থিতি পরীক্ষা করে দেখছে তারা। এনডিএমএ নামের এই উপাদানটি মানুষের দেহে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়। এই উপাদানটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করে দেখেই এই সিদ্ধান্ত জানান তাঁরা।

যুক্তরাষ্ট্রে সিভিএস ছাড়াও এর আগে ওয়ালমার্ট, ওয়ালগ্রিনস এবং রাইট এইডের মতো কোম্পানি এর আগে রেনিটিডিন বিক্রি বন্ধ করে দেয়। ক্যানাডা এবং ফ্রান্সে ফার্মেসির তাক থেকে এগুলো তুলে নেয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্যানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, হাঙ্গেরি, মেসিডোনিয়া, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং আমেরিকায় এটি বাজার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে বা তুলে নেওয়া হয়েছে।

ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল ভিজি সোমানি দ্রুত এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ভারতের বাজারে এই ওষুধের বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। মূলত Saraca Laboratories ও SMS Lifesciences- এই দুই সংস্থাই ভারতে রেনিটিডিন বিক্রি করে থাকে।

ভারতের দুই সংস্থা ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। যদিও পর্যবেক্ষণের ফল আতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। তবে ইতিমধ্যেই বিক্রি স্থগিত রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।