স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: উলটপুরাণ!
কয়েকদিন আগেও যাকে কিনতে গিয়ে বাঙালি হাপিত্যেশ করেছে, দায়ে পড়ে কিনলেও হাত পুড়েছে, সমুদ্রের সেই ‘রুপোলি রানি’ এখন বিকোচ্ছে জলের দরে! হবে নাই বা কেন৷ চাহিদার চেয়ে জোগান যে বেশি৷ অগত্যা, ‘রানি’র দাপটে বাজারে এসেও হালে পানি পাচ্ছে না রুই, কাতলা, মাগুর, সিঙি৷
ঘটনাস্থল, সমুদ্র শহর দিঘা৷ স্বভাবতই খুশি মৎস্য ব্যবসায়ী থেকে আমআদমি৷ কেউই চান না এই প্রিয় রসনা তৃপ্তি থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখতে৷ ফলে ইলিশের দাপটে বাজারে এসেও বিকোচ্ছে না রুই-কাতলা৷ আরও স্পষ্ট করে বললে, ঝির ঝিরে বৃষ্টির আবহে দিঘা যেন ইলিশের মরসুম৷

দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রের খবর, শেষ এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টন করে ইলিশ উঠছে। অর্থাৎ সপ্তাহে গড়ে প্রায় দেড় হাজার টন ইলিশ আমদানি হচ্ছে৷ ইলিশের রেকর্ড পরিমাণ এই জোগান আরও এক দু’সপ্তাহ বজায় থাকবে বলেই আশা করছেন তাঁরা৷ ফলে আগামী আরও কয়েকদিনও রুপোলি রানি জলের দরেই বিকোবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘‘অন্যবারে এই সময় ইলিশের দাম সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে৷ কিন্তু এবারে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় দিঘার পাইকারি বাজারে ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। আর ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ কেজি প্রতি বিকিয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়।’’ তিনি জানিয়েছেন, ইলিশ আমদানির এই ধারা আরও কয়েকদিন বজায় থাকবে৷ ফলে বাজারে এখন ইলিশের দাম মধ্যবিত্তের ধরা ছোঁয়ার মধ্যেই থাকবে৷

স্বাভাবিকভাবেই ঝিরে ঝিরে বৃষ্টির আবহে শনিবাসরীয় দিঘা যেন হয়ে উঠেছিল ইলিশের মরসুম। হোটেল থেকে ফুটপাতের দোকান, সর্বত্রই দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গিয়েছে সমুদ্রের সোনালি ফসলকে৷
হবে নাই বা কেন৷ বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ৷ আর ইলিশ মানেই জিভে জল আনা স্বাদ। ইলিশ নিয়ে আমজনতার রসনা তৃপ্তিরও শেষ নেই। তাই, রুপোলি রানিকে নাগালের মধ্যে পেয়ে মাতামাতিরও অন্ত নেই সমুদ্র পারে৷

হবে নাই বা কেন! সমুদ্রের সোনালি ফসল যে উপচে পড়ছে মৎস্যজীবীদের জালে! অগত্যা, সময় খারাপ যাচ্ছে মাছের ‘রাজা’ রুই-কাতলাদের!

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও