প্রসেনজিৎ চৌধুরী: কে বলে গো এই প্রভাতে নেই আমি !!!

এমনই কিছু বলা যায় যদুবংশের কুলদীপক লালুপ্রসাদ যাদবের ক্ষেত্রে। রাজ্য ভাগ হলে জীবন দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই বিহার দু টুকরো হয়ে ঝাড়খণ্ড হয়েছে। লালুজি তারপরেও ‘হুমকি’র কথা ভুলে নিজের অংশ বিহারে রাজত্ব চালিয়ে গিয়েছেন।

লালুপ্রসাদ ঝাড়খণ্ডেও রয়েছেন নিজের মহিমায়। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় জেল বন্দি জীবন। সেখান থেকেই নেড়ে চলেছেন কোন এক অদৃশ্য কলকাঠি। বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) , কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) মহাজোট তৈরি করেছে। রাঁচির রাজনীতিতে একটু কান পাতুন, শুনতে পাবেন এসবের হোতা বর্ষীয়ান লালুজি।

হিন্দিতে চালু কথা- এক ময়ান মে দো তলোয়ার নেহি জা সাকতি। তার মানে, একটি খাপে দুটো তলোয়ার থাকতে পারে না। রাঁচির রাজকাহিনিতে ঢুকলে দেখা যাবে, বাস্তবটা অন্যরকম। ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা ‘গুরুজি’ শিবু সোরেনের দল জেএমএমের মহাজোটে আছে লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি। বেশ সহাবস্থানেই রয়েছেন গুরুজি-লালুজি। হিন্দি তলোয়ার প্রবাদটা ঠোক্কর খাচ্ছে এখানেই।

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি ঘটনার সময়টিতে অখণ্ড বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন লালুপ্রসাদ যাদব। আর তারও আগে থেকে ঝাড়খণ্ড তৈরির আন্দোলনের ধাক্কায় লালুর দু চোখের বিষ শিবু সোরেন। রাজ্য ভাগ হলে আমার মৃতদেহের উপরেই হবে এমনই হুঁশিয়ারি ছিল লালুপ্রসাদের।

তবে বিহার ভাগ হয়। আর অবিভক্ত বিহারের পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির দেওঘর ট্রেজারি মামলাতেই (১৯৯১-১৯৯৪) জেল যেতে হয় লালুপ্রসাদকে। তদন্তে উঠে আসে, লালুপ্রসাদ মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দেওঘর ট্রেজারির বিপুল অর্থ নয়ছয় হয়।

২০০০ সালে বিহার কেটে ঝাড়খণ্ড তৈরি হতেই দেওঘর পড়ে নতুন রাজ্যে। ফলে দেওঘর ট্রেজারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাঁচি সংশোধনাগারে বন্দি হন লালুপ্রসাদ যাদব। বর্ষীয়ান এই বিজেপি শিবির বিরোধী নেতা অসুস্থ। বন্দি অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা চলছে রাঁচির রিমস হাসপাতালে।

বিহার ভাঙার প্রবল বিরোধিতা করলেও নিয়তির পরিহাস এমনই যে লালুপ্রসাদ সেই ঝাড়খণ্ডেই বন্দি। রাঁচিতে গুঞ্জন, বন্দি লালুজির নির্দেশেই আরজেডি হাত মিলিয়েছে গুরুজি শিবু সোরেনের জেএমএমের সঙ্গে।

ঝাড়খণ্ডের ক্ষমতায় বিজেপি। তাদের বিরুদ্ধে জোট করে লড়াই করা ছাড়া পথ নাই তা বুঝতে পেরেছেন বিরোধী শিবিরের দুই প্রবীণ মুখ। ফলে জোটের দায়িত্বটা গিয়ে পড়ে লালুজি-গুরুজি পরবর্তী প্রজন্ম হেমন্ত সোরেন ও তেজস্বী যাদবের ঘাড়ে।

রাঁচিতে বন্দি-অসুস্থ লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে দেখা করেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। পরে আরজেডি ঝাড়খণ্ড সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ রঞ্জন যাদবের একটি মন্তব্যে শোরগোল পড়ে যায়। তিনি বলেন, একলা ঘরে লালুজির সঙ্গে হেমন্ত সোরেনের আলোচনার কথা কেউ জানে না।

সেই বৈঠক সেরে বেরিয়ে আসার পরেই ঝাড়খণ্ডে বিরোধী মহাজোটের রাস্তা পাকা হয়। তেজস্বী যাদবের উপস্থিতিতে ঘোষণা হয় বিধানসভা নির্বাচনে জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বে লড়বে আরজেডি। মনে করা হচ্ছে, বিহারের প্রান্তসীমায় থাকা বিধানভাগুলিতে বিরোধী শিবিরের ভোট ভাগাভাগি হচ্ছেনা বলেই নিশ্চিত জোট নেতৃত্ব।

আরজেডি ঝাড়খণ্ড রাজ্য শাখা তাদের বড়দাদা অর্থাৎ বিহারের হেডকোয়ার্টার থেকেই বেঁধে দেওয়া রণনীতি মেনে চলে। সেই সবুজ সংকেতটি আসার আগেই রাঁচির রিমস হাসপাতালের একান্ত বৈঠকে কলকাঠি নেড়ে দিয়েছিলেন লালুপ্রসাদ যাদব।

বাকিটা জলের মতো পরিষ্কার। ছায়ামানুষ হয়েই লালুপ্রসাদ মহাজোটের জট কাটিয়েছেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও