পুজা মণ্ডল, কলকাতা: প্রথমে মিলেছিল অনুমতি। কিন্তু কর্মসূচি পালনের দিন তুলে দেওয়া হল সভামঞ্চ। মঙ্গলবার নিজেদের দাবি আদায়ে কলকাতার বিধাননগরের আচার্য সদন থেকে ময়ুখ ভবন পর্যন্ত মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বিজিটিএ ( রানাঘাট ওবিআর বৃহত্তর গ্রাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন) এর সদস্যরা।

এদিনই প্রথম রাজ্য সম্মেলনেরও আয়োজন করেন তাঁরা। কিন্তু প্রথমে অনুমতি মিললেও মঙ্গলবার অর্থাৎ কর্মসূচির দিন পুলিশ মঞ্চ তুলে দেয় বলে দাবি তাঁদের। অবশ্য ওই স্থানেই এদিন পথসভা করার মাধ্যমে নিজেদের কর্মসূচি শেষ করেন বলে জানান সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য রত্নদীপ সামন্ত।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে নিযুক্ত স্নাতক শিক্ষক – শিক্ষকাগন বিগত দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে সর্বভারতীয় স্তরে প্রচলিত স্নাতক শিক্ষক বেতনক্রম থেকে বঞ্চিত। পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্য অর্থ দপ্তর প্রনীত রোপা রুলস ২০০৯-এ স্নাতক শিক্ষকদের বেতন ক্রম ধার্য করা হয় ৭১০০ – ৩৭৬০০ টাকা এবং গ্রেড পে ৪১০০ টাকা। পে ফিক্সেশনের পর প্রারম্ভিক মূল বেতন হয় ১২৭৫০ টাকা।

অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের বেতনক্রম ধার্য করা হয় ৯০০০-৪০৫০০ টাকা এবং গ্রেড পে ৪৮০০ টাকা। ফলে তাঁদের প্রারম্ভিক মূল বেতন হয় ১৫৯৬০ টাকা। উভয়ের প্রারম্ভিক মূল বেতন মূল্যের পার্থক্য দাঁড়ায় ৩২১০ টাকা। যদিও সেই সময়কালে সর্বভারতীয় স্তরে প্রচলিত বেতন কাঠামো দেওয়া হয় ৯৩০০- ৩৪৮০০ টাকা ও গ্রেড পে ৪৬০০ টাকা ।

অর্থাৎ পে ফিক্সেশনের পর প্রারম্ভিক মূল বেতন হয় ১৮১৫০ টাকা। উভয়ের প্রারম্ভিক মূল বেতন মূল্যের পার্থক্য দাঁড়ায় ১০১০ টাকা। পশ্চিমবঙ্গের অর্থ দপ্তর স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সর্বভারতীয়স্তরের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বেতন কাঠামো তৈরি করে তাঁদের গ্রেড পে ধার্য করেন ৪৮০০ টাকা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গের স্নাতক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বঞ্চনামূলক নিম্নস্তর সহ গ্রেড পে ধার্য করা হয় ৪১০০ টাকা, যা প্রচলিত সর্বভারতীয় স্তরে প্রচলিত গ্রেড পে নয়। শুরুর বেসিক হওয়া উচিৎ ১৪,৮৩০ টাকা। এছাড়াও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন স্নাতক শিক্ষকরা বলে দাবি তাঁদের। যে কারনে তাঁদের এদিনের কর্মসূচি। যদিও পূর্বে তাঁরা এ বিষয়ে আদালতে মামলাও করেছেন।

তাঁদের মূল দাবিগুলি হল –
– রোপা ২০০৯ সংশোধন করে কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সমস্ত গ্র্যাজুয়েট        ক্যাটাগরির শিক্ষকদের অভিন্ন পে স্কেল চালু করতে হবে
– সর্বভারতীয়স্তরে প্রচলিত স্নাতক শিক্ষকদের বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেড পে ৪৬০০ টাকা ধার্য করে ১লা জানুয়ারী ২০০৬ থেকে কার্যকর করতে হবে
– সরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের ন্যায় সমগ্র কর্মজীবনে তিনবার উচ্চতর বেতনক্রমে উন্নীত করতে হবে
– কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই গ্রাজুয়েট ও পোষ্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষক দের বেতন পার্থক্য বজায় রাখতে হবে
– কন্ট্রোল অফ এক্সপেনডিচার অ্যাক্ট ২০০৫ বাতিল করতে হবে

এদিনের কর্মসূচিতে তাদের সঙ্গে ছিলেন সমীর আইচ, শিক্ষক শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সম্পাদক ( দঃ ২৪ পরগণা ) অনিমেষ হালদার প্রমুখরা। এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছেন মিরাতূননাহার।