হরিদ্বার: হেমন্ত কারকারে বিতর্কে সাধ্বী প্রজ্ঞা পাশে পেলেন যোগ গুরু বাবা রামদেবকে৷ মুম্বই হামলায় শহিদ মহারাষ্ট্র জঙ্গি দমন শাখার প্রধান হেমন্ত কারকরে সাধ্বী প্রজ্ঞার অভিশাপে মারা যান৷ এমন মন্তব্য করে বিতর্ক বাধান ভোপালের এই বিজেপি প্রার্থী৷ সাধ্বীর এমন মন্তব্য করা উচিত হয়নি বলে মেনে নিয়েও তাঁর পাশে দাঁড়ান রামদেব৷

সোমবার হরিদ্বারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রামদেব জানান, মালেগাঁও বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগে নয় বছর জেলে কাটিয়েছেন সাধ্বী৷ অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে৷ সাধ্বী যা বলেছেন সেটা বলা হয়তো ঠিক হয়নি৷ কিন্তু শুধুমাত্র সন্দেহের বশে তাঁর সঙ্গে জেলে যে অমানুষিক ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও তো ঠিক হয়নি৷

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন মহারাষ্ট্র জঙ্গি দমন শাখার (এটিএস) প্রধান হেমন্ত কারকারে, মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন, মুম্বইয়ের অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার অশোক কামতে এবং সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর বিজয় সালাসকর৷

সেই ঘটনার উল্লেখ করে সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেছিলেন, ওই হামলার কিছুদিন আগেই হেমন্ত কারকারেকে তিনি অভিশাপ দেন৷ আর সেই অভিশাপ ফলে গিয়েছিল হেমন্ত কারকারের জীবনে৷ জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর৷ ২০০৮-এ মালেগাঁও বিস্ফোরণের অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। ২৩ দিন হেফাজতে ছিলেন তিনি। আর ওই ২৩ দিন তাঁকে অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন সাধ্বী প্রাচী। কর্মিসভায় তিনি বলেন, প্রথম দিনই কিছু জিজ্ঞেস না করেই পেটাতে শুরু করে পুলিশ।

মোটা বেল্ট দিয়ে মারা হত বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেন, এত জোর মারা হত যে সেই মার খেয়ে নার্ভাস সিস্টেম দুর্বল হয়ে যেত। দিন-রাত এভাবেই মারা হত তাঁকে। সঙ্গে অকথ্য গালিগালাজ করা হত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উল্টো করে ঝুলিয়ে, বিবস্ত্র করা হত বলেও জানান সাধ্বী প্রজ্ঞা। তাঁকে মেরে জোর করে বলানোর চেষ্টা হত যে তিনি মুসলিমদের হত্যা করেছেন, এমনটাই দাবি প্রজ্ঞার। বিরোধীদের তোপের মুখে নিজের জেলে থাকার কষ্টের কাহিনী বলে চোখে জল আনলেন সাধ্বী প্রজ্ঞা।