ঢাকা-নয়াদিল্লি    ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের পুরুষ ও মহিলা প্রশিক্ষকরা খুব শিগগিরই বাংলাদেশে গিয়ে বিজিবি’র সদস্যদের যোগাসন শেখাবেন।  সম্প্রতই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং বিএসএফের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা হয়।  সেখানেই স্থির হয়েছে।বিজিবিকে যোগ শেখাবে বিএসএফ।  বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা তাদের নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনের অংশ হিসেবেই এই ‘যোগাভ্যাস’ করবেন।

দিল্লিতে বিএসএফের এক মুখপাত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই বিএসএফে নিয়মিত ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের অংশ হিসেবে ‘ইয়োগা’ (যোগাসন) চালু হয়েছে এবং জওয়ানরা তার সুফলও পাচ্ছেন। ইয়োগা চালুর খবর জানতে পেরে বিজিবি’র আধিকারিকরা বিএসএফের কাছে এই বিষয়ে খোঁজখবর করেন।  বিজিবি’র আগ্রহেই তাদের ইয়োগা শেখানোর প্রস্তাবে বিএসএফও সানন্দে রাজি হয়েছে।

ঢাকাতে দুই বাহিনীর আধিকারিকদের মধ্যে সদ্য সমাপ্ত সীমান্ত সম্মেলনেই বিজিবির সদস্যদের ইয়োগা শেখানোর ব্যাপারে কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে।  সম্মেলনের শেষে দুই বাহিনীর পক্ষ থেকে যে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়, তাতেও একেবারে শেষের দিকে খুব সংক্ষেপে বিষয়টি উল্লেখও করা হয়, যদিও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।  যদিও দিল্লিতে বিএসএফের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা শুভেন্দু ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, ‘ভারতের ইয়োগা গুরু রামদেব গত বেশ কয়েক মাস ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের যে ইয়োগা প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন, তার দারুণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে।  আমাদের জওয়ানরা এই যোগাসন দারুণ উপভোগ করছেন ও তাদের শারীরিক সক্ষমতাও বেড়েছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষীরাও এখন এই ইয়োগার উপকার পেতে আগ্রহী, ফলে আমরাও তাদের জন্য ইয়োগা প্রশিক্ষক পাঠাতে রাজি হয়েছি। এই পদক্ষেপ দুই বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ককে আরও জোরালো করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস’।

মূলত ভারতের উৎসাহেই রাষ্ট্রসংঘে প্রতি বছরের ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  ভারতও ইয়োগাকে দেশে-বিদেশে জনপ্রিয় করার জন্য এই দিনটিকে নানাভাবে ব্যবহার করতে চেষ্টার কোনও ত্রুটিও রাখছে না। ইয়োগাকে জনপ্রিয় করার জন্য ভারত সরকারের সবচেয়ে বড় অবলম্বন হলেন বাবা রামদেব, যোগগুরু হিসেবে যার নাম ভারতের ঘরে ঘরে।  গত বছরদেড়েক ধরে তিনি বিএসএফের বিভিন্ন শিবিরে গিয়েও সীমান্তরক্ষীদের ইয়োগা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।  রাজস্থানের যোধপুর, জয়সলমির, বিকানের, পাঞ্জাবের ফাজিলকা, পাঠানকোট বা জম্মুর নানা শহরেও তিনি বিএসএফ জওয়ানদের জন্য এরকম বহু ইয়োগা ওয়ার্কশপ করেছেন।

এর মধ্যেই অন্তত বিশ হাজার বিএসএফ জওয়ান বাবা রামদেবের ওয়ার্কশপ থেকে সরাসরি ইয়োগা ট্রেনিং নিয়েছেন ।  তাদের মধ্যে থেকে বেশ কয়েকজন নিজেরাই উপযুক্ত প্রশিক্ষক হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলেছেন। বিএসএফের মধ্যে ইয়োগা এতটাই সাড়া ফেলেছে যে, বাহিনীর মহাপরিচালক কে কে শর্মা ইয়োগাকে বিএসএফে সবার জন্য একরকম বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন।  এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বাহিনীর নিয়মিত ফিজিক্যাল ট্রেনিং (পিটি)-র বদলে  জওয়ানদের মধ্যে যোগাভ্যাস চালু করা হয়েছে।

বিএসএফের বর্তমান কর্তা নিজেই ইয়োগার একজন বড় ফ্যান, ফলে বিজিবির দিক থেকে যখন ইয়োগা শেখার প্রস্তাব এসেছে, তিনি তাতে সায় দিতেও দুবার ভাবেননি।