কলকাতা: কয়েকদিন ধরেই ‘রাম’ ইস্যুতে উত্তপ্ত বাংলা। ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি শুনেই গাড়ি থেকে নেমে এসেছিলেন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকেই বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। আর এবার তাঁর প্রিয়া বিশ্ব বাংলার গায়েই লেখা হল রাম।

সোমবার এই বিষয় নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। কাঁকিণাড়ায় একটি বিশ্ব বাংলার লোগোর গায়ে লেখা ‘ব’-থেকে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘রাম।’ সেই ছবি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কাঁকিনাড়া মাদ্রাল হনুমান মন্দিরের ভিতরে “বিশ্ব বাংলা লোগো”- তে রাম লিখে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।

সোমবার নবান্নে বৈঠকের পর এই বিষয় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, যারা এই কাজ করছে তারা রাজনীতির বাইরের লোক। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাংলা’ রাজ্য সরকারের একটি লোগো। সেটি এইভাবে বিকৃত করার জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই জানান তিনি। এই প্রসঙ্গে তারকেশ্বরের ঘটনার কথাও বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তারকেশ্বরের নাইটা মালপাহাড়পুরে ঘটেছে সেই ঘটনা। বিজেপির বিজয় মিছিল চলছিল। সেই সময় জাতীয় পতাকা নামিয়ে তোলা হয় বিজেপির দলীয় পতাকা। পঞ্চায়েত ভবনে টাঙানো ছিল জাতীয় পতাকা। তা নামিয়ে নিজেদের দলের পতাকা তুলে দেয় বিজেপি সমর্থকরা। এমনটাই অভিযোগ করেছে এলাকার তৃণমূল। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি শুনে ক্ষুব্ধ হওয়ার ঘটনায় আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় লিখেছেন, কালীঘাটের মোড়ে শ্রীরামচন্দ্রর একটি মর্মর মূর্তি বানানোর জন্য সরকারিভাবে আবেদন করা হোক৷ দেখি দিদিমণি সরকারিভাবে না বলার সাহস দেখাতে পারেন কিনা। জয় শ্রী লবকুশ-এর বাবা৷ মানে জয় শ্রীরাম৷

এদিকে, ফেসবুকে পোস্ট করে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, কোনও স্লোগানেই তাঁর আপত্তি নেই। তবে ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিতে মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে।মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমার কোনও রাজনৈতিক দলের স্লোগান নিয়েই সমস্যা নেই। সব দলেরই নিজস্ব স্লোগান আছে। আমার দলের স্লোগান জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম। বামফ্রন্টের আছে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। অন্যদেরও এরকম অনেক স্লোগান আছে। প্রত্যেকের স্লোগানকেই সম্মান করি।’