স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ না দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। টুইটে রাজ্যপাল লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে গোটা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সের গরহাজির থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক কাজ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। এটা রাজ্যের স্বার্থের পরিপন্থী।’

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করেন মোদী। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন ৯ জন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ-সহ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির শীর্ষ আমলারা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে গত ২৪ মার্চ সারা দেশে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার মধ্যে এক সপ্তাহ পার হয়েছে। এখনও সংক্রমণ বাড়ছে।

তার জেরে সারা দেশে উদ্বেগ ছড়িয়েছে যে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতেই আজ মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিয়ো-বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী। এ দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীদের বলেছেন, ‘‘লকাডউনের পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যাতে ফের ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি।’’

বৈঠক সূত্রে খবর, মোদী বলেছেন, লকডাউন উঠে যাওয়ার পরেই আগেকার মতো সব কিছু গতানুগতিক চলতে শুরু করল, এমনটা হতে দেওয়া যায় না। বরং তার পরেও কিছু নিয়ন্ত্রণ বা সতর্কতা নিতে হবে। লকডাউনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদী স্পষ্টভাবে কিছু না বললে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, ধাপে ধাপে লকডাউন শিথিল হওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন মোদী।

এদিকে, দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার রাজ্যপালদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করবেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও উপ–রাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু।বৈঠকের মূল বিষয়, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে জোরদার করা। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে এটা এ ধরনের দ্বিতীয় কনফারেন্স হবে। সেখানে গর্ভনর, লেফটেন্যান্ট গর্ভনর ও সব রাজ্যের প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করবেন রামনাথ কোবিন্দ ও ভেঙ্কাইয়া নাইডু।