সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : দশরথকে পিন্ডদান করেছিলেন সীতা। সেই গল্পই লুকিয়ে রয়েছে শহরের ছোট্ট গলির এক রাম মন্দিরে। শিয়ালদহ বিখ্যাত ডেন্টাল কলেজের পাশ দিয়ে যে রাস্তাটা নামে পরিচিত সেই রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে ডান দিকে গিয়ে একটু ঘুরলেই বাঁদিকে রয়েছে এক রাম মন্দির। ৪৮এ শাঁখারী টোলা স্ট্রিটের ঐ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতার নাম শীতল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ও তাঁর পত্নী রাজলক্ষ্মী দেবী। প্রতিষ্ঠাকাল ১৯২৬ সালের ১৫ জুলাই বাংলায় ৩০ আষাঢ় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ। লাল রং করা এই মন্দিরটি বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায়না যে ভেতরটা কত সুন্দর মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করলে মনটা একেবারে অন্যরকম হয়ে যায় বিশাল চত্বর জুড়ে ঢাকা মন্দির সাদা পাথরের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এই মন্দিরের ভিতরে রয়েছে ধাতুনির্মিত রাম সীতার মূর্তি।

পিন্ডদানের গল্প কেমন? জানা নায়, রামচন্দ্রের বনবাসের কারণে অত্যধিক মনোকষ্টে মৃত্যুবরণ করেছিলেন দশরথ। রামচন্দ্রের কাছে খবর পৌঁছালে তারা দুই ভাই মিলে পিতা শ্রাদ্ধের জোগাড় করতে বেরোন। বেলা গড়িয়ে যায় কিন্তু তারা না ফেরার কারণে অস্থির হয়ে পড়েন সীতা কারণ দুপুর প্রায় গড়িয়ে যায় এসময় তাদের শেষ না হলেও জোগাড়টা অন্তত শুরু করে দেওয়া প্রয়োজন এই মনে করে ফল্গু নদীর তীরে সীতা নিজেই দশরথের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ ক্রিয়া শুরু করেন। সাক্ষী হিসেবে সীতা তুলসী গাছ ,ব্রাহ্মণ ও বটবৃক্ষকে নির্বাচন করেন। তার মনে হয়েছিল এ বিষয়টি হয়তো রামচন্দ্র নাও মানতে পারেন। দশরথের আত্মা নিজের দুই হাত বাড়িয়ে সেই পিণ্ড গ্রহণ করেন। রামচন্দ্র ফিরে এলে এই ঘটনা শুনে তারা কিছুতেই এটা মেনে নিতে প্রস্তুত হন না।

যে কেন দশরথ পুত্রবধুর হাত থেকে পিন্ডদান গ্রহণ করবেন। তখন সীতা জানান যে, তিনি এই ঘটনার সাক্ষী রেখেছেন কিন্তু যে চারজন সাক্ষী রাখা হয়েছিল তাদের মধ্যে তুলসী গাছ, ব্রাহ্মণ আর ফল্গু নদী অস্বীকার করে। একমাত্র বটগাছ এই সাক্ষ্যদান স্বীকার করে তখন ক্রুদ্ধ সীতা অভিশাপ দেন এই বলে যে তুলসী গাছে চিরকালই কুকুর প্রস্রাব করবে ব্রাহ্মণ চিরকাল ভিক্ষাবৃত্তি করবে আর ফল্গু নদী শুকিয়ে যাবে। যেহেতু বটগাছ একমাত্র সাক্ষ্য দিয়েছিল তাই তিনি বটগাছকে ‘চিরজীবী হও ‘বলে আশীর্বাদের সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলেন তার ছায়ায় বহু মানুষ শীতল হবে। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রামায়ণের এই কাহিনী মাথায় রেখেই এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

পুরোহিতদের দাবী, ফল্গু নদী তীরে রামচন্দ্র এবং সীতা একযোগে পিতৃ তর্পণ করছেন এমনই মূর্তির রূপ। প্রতিবছর রাম নবমীতে এই মন্দিরে খুব ভালোভাবে যাগযজ্ঞ সহকারে পূজা হয়। মন্দিরটি সকালে একটা নাগাদ বন্ধ হয় আর বিকেল চারটায় খুলে রাত নটায় বন্ধ হয়। সন্ধ্যা আরতী দেখার মতো।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও