নয়াদিল্লি: ভগবান শ্রী রামের মন্দির নির্মাণের পক্ষে কংগ্রেস। রায়ের ফলে মন্দির তৈরির দরজা খুলে গেল। অযোধ্যা মামলার রায়ের এই প্রতিক্রিয়া দিলেন কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা। এরই সঙ্গে তিনি বললেন, “বিজেপির রাজনীতিও বন্ধ হয়ে গেল।” অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির হবে। বিকল্প পাঁচ একর জমি পাবে মুসলিমদের পক্ষের ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড’। শনিবার সকালে বিতর্কিত অযোধ্যা মামলায় এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় বলে আদালত সূত্রে খবর। রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিতর্কিত মূল বিতর্কিত জমি পাবে ‘রাম জন্মভূমি ন্যাস’। এই জমিতে মন্দির তৈরিতে কোনও বাধা নেই। তবে কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তিন মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। ওই ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানেই থাকবে বিতর্কিত মূল জমি। কী ভাবে, কোন পদ্ধতিতে মন্দির তৈরি হবে, তারও পরিকল্পনা করবে ট্রাস্ট।

অন্য দিকে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। নির্দেশে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কোনও জায়গায় ওই জমির বন্দোবস্ত করতে হবে সরকারকে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বাবরের সেনাপতি মির বাকিই যে মসজিদ তৈরি করেছিলেন, তার প্রমাণ রয়েছে। তবে সেটা কোন সালে, তা নির্ধারিত নয় এবং তারিখ গুরুত্বপূর্ণও নয়। এদিন রায় ঘোষণার আগেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়, রায় বেরোনোর পর তারা কি বলবে।

এরপরই সাংবাদিক বৈঠকে রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত চলে এসেছে। আমরা রামমন্দির বানানোর পক্ষে। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মন্দির তৈরির দরজা খুলে দিল তাই নয় বিজেপি ও অন্য দলগুলোর রাজনীতি করার দরজাও বন্ধ করে দিয়েছে। কংগ্রেসের তরফে দেশের সবার কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। দেশের অখণ্ডতা যাতে কোনওভাবেই নষ্ট না হয়।” লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “প্রথম থেকেই কংগ্রেস শান্তির পক্ষে ছিল। বরাবরই আমরা শান্তির পূজারী। আমাদের সবার উচিত শীর্ষ আদালতের রায়কে সম্মান করা।”