স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রামমন্দিরের ভুমিপুজোয় আমন্ত্রণ পেলেন অযোধ্যা আন্দোলনের কলকাতার দুই শহীদ ভাই রাম কোঠারি ও শরদ কোঠারির বোন পূর্ণিমা কোঠারি। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী থাকতে ইতিমধ্যেই অযোধ্যা পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। তবে ভুমিপুজোকে ঘিরে এই মুহূর্তে চরম উন্মাদনা বড়বাজারের কোঠারি পরিবারে।

১৯৯০ সাল। তখন উত্তরপ্রদেশের মসনদে মুলায়ম সিং যাদব। ওই বছরই ২ নভেম্বর রাম মন্দির নির্মাণের দাবি জানাতে বাবরি মজসিদ থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত হনুমান গড়ি মন্দিরের সামনে জড়ো হয়েছিলেন করসেবকরা। তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন কলকাতার বড়বাজার এলাকার দুই ভাই- রাম ও শরদ কোঠারি। শোনা যায়, মুলায়ম সিংয়ের নির্দেশে ওইদিন করসেবকদের উপর গুলি চালায় পুলিশ।

ওই ঘটনায় ১৬ করসেবক-সহ মৃত্যু হয় কোঠারি ভাইদেরও। রাম মন্দিরের জন্য প্রথম রক্ত দেয় বাংলার দুই সন্তান। তাঁদের সম্মানে ওই গলির নাম রাখা হয় শহিদ গলি। তার পর থেকে কোঠারি পরিবার প্রতিবছর রামজন্মভূমিতে গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে সেকথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন পূর্ণিমাদেবী।

বলেন, “দেখুন রাম মন্দির আন্দোলন আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলে বোঝাতে পারব না। দাদাদের মৃত্যুর পর প্রায় ৩০ বছর কেটে গিয়েছে। আজও মনে হয় তাঁরা আসবে, আমার সঙ্গে কথা বলবে। আমাদের ছোটবেলা বিকানেরে কেটেছে। এখনও সেখানে আত্মীয়র থাকেন।”

তিনি আরও বলেন, “রাম ভক্তদের বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে আমি জড়িত। ভূমিপুজোয় আমি যাচ্ছি শুনে তারা সকলেই খুব খুশি হয়েছে। আমার দাদারা বেঁচে থাকলে তারাও নিশ্চয়ই এই অনুষ্ঠানে যেতেন।”

সে সময়ে কলকাতায় আরএসএস-এর তিনটি শাখা সংগঠন ছিল। তিনটিতেই অবাধ যাতায়াত ছিল কোঠারি ভাইদের। সেইখান থেকেই মাটি গিয়েছে অযোধ্যায়। এতদিন চোখের জল ফেলেছেন, কিন্তু এবারের অযোধ্যা তাঁর কাছে আলাদা। এবার প্রাণ ভরে শ্বাস নেবেন তিনি, জানিয়েছেন পূর্ণিমা।

প্রসঙ্গত, অযোধ্যায় ‘বিতর্কিত জমি’তে রাম মন্দির তৈরির পক্ষেই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৫ অগাস্ট মন্দির নির্মাণের জন্য ভূমি পুজো করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। ৫ অগস্ট ঠিক সোয়া ১২টায়, ৪০ কেজির রুপোর ইট পুঁতে মোদীর হাতে ভূমিপুজোর উদ্বোধন হবে।

প্রথমে হনুমানগঢ়ী মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা, পরে অস্থায়ী রামমন্দিরে পুজো দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরে ভূমিপুজোর উদ্বোধন করবেন। দু’দিন আগে থেকেই অবশ্য বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুজোর প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়ে যাবে। গোটা অনুষ্ঠানের জন্য অযোধ্যায় দু’ঘণ্টা কাটাবেন মোদী।

বারাণসী থেকে পুরোহিতেরাও পৌঁছচ্ছেন অযোধ্যায়। ভুমিপুজো উপলক্ষ্যে হুগলির ত্রিবেণী, বীরভূমের তারাপীঠ ও পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় থেকে জল-মাটি-যজ্ঞের ভষ্ম নিয়ে অযোধ্যায় রওনা দিয়েছে বিশ্বহিন্দু পরিষদের নেতারা।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা