আগরতলা: ক্রমে বাড়ছে শরিকি দ্বন্দ্ব। সেই ধাক্কায় চওড়া হচ্ছে ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখলকারী বিজেপি শিবিরের কপালের ভাঁজ। শরিক দল উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি প্রকাশ্যে সরব সরকারের সমালোচনায়।

শুক্রবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সদর খুমলুঙ তো বটেই বিভিন্ন স্থানে উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি-এর ডাকা বনধের প্রভাব দেখা দিয়েছে। এতেই চিন্তিত রাজ্য বিজেপি। দলেরই অন্দরমহলে চলছে আলোচনা। এতে উঠে এসেছে আসন্ন এডিসি (অটোনমাস ডিস্ট্রিক্টস কাউন্সিল) বা স্বশাসিত উপজাতি এলাকার নির্বাচনে শরিকি দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকার বিষয়টি।

দলীয় কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এই অভিযোগে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় খুমলুঙে অবরোধ বিক্ষোভ এবং বনধ পালন করে আইপিএফটি। বিক্ষোভের চেহারা অনেকটা পূর্বতন বাম আমলের সময় হিংসাত্নক আন্দোলনের মতো। সূত্রের খবর, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ এমনই মনে করছেন।

গত বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছরের বাম জমানার পতন হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের ক্ষমতার শেষ কয়েকমাসে পৃথক রাজ্যের দাবিতে উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি হিংসাত্মক অবরোধ কর্মসূচি চালিয়েছিল। পরে নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে বিজেপিতে আসা নেতাদের সঙ্গে জোট হয়। সেই বিজেপি-আইপিএফটি জোট ক্ষমতা দখল করে।

বিধানসভার পর পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে বিরাট সফল হয় বিজেপি। তবে সদ্য শেষ হওয়া স্বশাসিত উপজাতি কাউন্সিল বা এডিসি এখনও বাম তথা সিপিআই (এম) দখলে। এডিসি নির্বাচন ঘিরেই তুঙ্গে সরকারের দুই শরিক দলের দ্বন্দ্ব।

একদিকে রাজ্যের একাংশে পৃথক স্বশাসিত এলাকা তিপ্রাল্যান্ডের দাবিতে অনড় আইপিএপটি। উপজাতি সংগঠনের নেতৃত্বরা বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি এডিসি এলাকায় প্রার্থী দেওয়া নিয়েও বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ও অন্যান্য বিজেপি নেতারা উপজাতি নেতৃত্বকে পাত্তা দিচ্ছে না।

আইপিএফটি তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে সরকারের ভূমিকায় সরব। বনধে তার প্রভাব পড়ার চিন্তিত বিজেপি শিবির।

পরিস্থিতির সামাল দিতে দু দিনের ত্রিপুরা সফরে এসেই বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব আগরতলায় দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন, জোট ধর্ম পালন করুক আইপিএফটি। এদিকে আইপিএফটি মুখপাত্র মঙ্গল দেববর্মা জানান, নিজেদের অবস্থান থেকে নড়বে না দল।

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআই(এম) এর দাবি, এডিসি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে উপজাতি এলাকার ক্ষমতা ধরে রাখবে বামেরা। অপর বিরোধী দল কংগ্রেসের অভিযোগ, পরিবর্তনের পর সন্ত্রাস রুখতে ব্যর্থ সরকার।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ