সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এই প্রথম এমন এক অনুষ্ঠান , যেখানে প্রধান অতিথি থেকে বিশেষ অতিথি সবাই গাছ। দর্শক আসনেও শুধু গাছ। গাছকেই জানানো হলো যোদ্ধার সন্মান, কারন গাছ‌ই তো আমাদের শক্তির আধার। সংবেদন নামে সংস্থা এমনটাই মনে করছে। সেই ভাবনা থেকেই গাছেদের আগলে রাখতে রাখী পড়ালেন ওঁরা।

হিন্দু মুসলিমকে রাখীর বন্ধনে বেঁধে দুই ধর্মের মিলনের বার্তা বইয়েছিলেন বিশ্বকবি। পুরান থেকে ইতিহাস নানা কারনে রাখীর নানা গল্প রয়েছে কিন্তু আজ গাছ বিপন্ন। বিপন্ন প্রকৃতি। তাই গাছ ও মানুষের বন্ধন গড়ে ওঠা সবার আগে প্রয়োজন। সময়ের চাহিদা সেটাই। তাই সংবেদন নামে সংস্থা। এক অভিনব রাখীর আয়োজন করল। তাঁদের বার্তা, ‘গাছ বাঁচাও সভ্যতা বাঁচাও।’ তাই ১০০ টি চারা গাছকে রাখী পরানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে কলকাতার বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের হাতে গাছ গুলো তুলে দেওয়া হয় রোপন করার জন্য। দৃষ্টি হীন ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত ছাত্ররা গাছকে রাখী পড়িয়ে সমাজকে দেয় পরিবেশ রক্ষার বার্তা।

প্রসঙ্গত ঘূর্ণিঝড় আমফানে কলকাতায় প্রায় ১৫ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতে প্রলেপ দিতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার গাছ মহানগর ও সংলগ্ন এলাকায় রোপণ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
কলকাতার সবুজায়ন নিয়ে পুরনিগমে বৈঠকে হয়। বৈঠকে ঠিক হয় শহরে কী কী গাছ লাগানো হবে এবং কী পদ্ধতিতে হবে, তা দেখতে বিশেষজ্ঞ এবং বন, পরিবেশ ও পুরসভার উদ্ভিদবিদদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি হবে। সেই কমিটিই সবুজায়ন কর্মসূচি ঠিক করবে। তবে সবাই বৈঠকে গাছ বসানোর চেয়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি। রাজ্যের মন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, ‘আমফানে এ শহরের প্রায় ১৫হাজার গাছের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি ভরাট করতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার গাছ রোপণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, কোন এলাকায় কী ধরনের গাছ লাগালে ভালো হবে, তা চূড়ান্ত করতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তারপরই গাছ লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের সবুজও। পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে রাজ্য সরকারও একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। কোন চারা কোথায় কখন রোপণ করা হবে এই কমিটি তার পরামর্শ দেবে। সুপার সাইক্লোনের ভয়ঙ্কর গতির জেরে এ রাজ্যের ১.৬৫ লক্ষ হেক্টর সবুজ ধ্বংস হয়েছে। বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ‘রাজ্যজুড়ে সাড়ে ৬ কোটি গাছ লাগানো হবে। শহরে তিন বছর বয়সী সাড়ে ১২ হাজার, আর দশ বছর বয়স্ক সাড়ে চার হাজার গাছ প্রতিস্থাপন হবে। জারুল, নিম ও দেবদারু গাছের ঝড়ে ক্ষতি কম হয় বলেই শহরে এই গাছগুলো বসানো হবে।’ আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সেই দিন থেকেই এই কাজ শুরু হয়েছে। সেই সবুজায়নের কাজ এখন চলছে দক্ষিণবঙ্গে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও