সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার অভিযোগও উঠেছিল। ১৩ মে অমিত শাহের রোড শো’য়ে সেই হুলুস্থুলু কাণ্ডের দায় পড়েছিল বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে। তাঁর নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতেই প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে বিতর্কের দানা বাঁধে। পুলিশ তার বিরুদ্ধে প্রমাণ জমা দেওয়ার পর তাকে সাত দিন পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই মামলা এখনও চলছে। শুক্রবার আলিপুর দায়রা আদালতে এই কাণ্ড নিয়ে তিনি হাজিরা দেবেন। হাজিরা দেওয়ার আগে বিজেপি নেতা বললেন , ‘প্রমাণ করতে পারলে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হোক’।

তিনি বৃহস্পতিবার রাত আটটা নাগাদ তার সোশ্যাল মাধ্যমে এই আবেদন জানান। তিনি লিখেছেন, “একজন সাধারণ বিজেপি কর্মী হিসাবে মাননীয় বিজেপি জাতীয় সভাপতি অমিত শাহজি’র রোড শো তে আমি উপস্থিত ছিলাম। স্বামী বিবেকানন্দ বাড়ির পাশ থেকে শুরু হওয়া ওই রোড শো’তে উপস্থিত ছিলাম। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই ঘটনা আমি ঘটাইনি, এই ঘটনা নিয়ে আমার কিছু করারও নেই। পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা পুলিশের রাহাজানি আমাকে কোনও কারণ ছাড়াই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে দিয়েছে।” এরপরেই তিনি লিখেছেন , “যদি ১৪.০৫.২০১৯ তারিখে বিদ্যাসাগর মূর্তি ভাঙচুর করার ঘটনায় আমার যুক্ত থাকার কোনও প্রমাণ থাকে, তবে আমায় ফাঁসির সাজা দেওয়া হোক।”

সোশ্যাল মাধ্যমে রাকেশ সিং দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন , “সত্যিই রাজনীতি খুব সস্তার হয়ে গিয়েছে। এই সস্তার রাজনীতিতে বাংলা ও বাঙালির রাজনীতি সবার উপরে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে বাংলায় বাঙালিদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও ভালোবাসা পাব। আমি এটাও মনে করি যে , আমি অবাঙালি হলেও এই মিথ্যাচারে এবং এই মামলায় আমি বেকসুর খালাসের রায় পাব।”

তিনি এও লিখেছেন , “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই আজ রাজ্যের রাজনীতি এতটা সস্তার হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিতে এসে গিয়েছে অযাচিত মেরুকরণ। এই মেরুকরণের জেরে বাঙালি ও অবাঙালিদের মাঝে একটা লাইন টেনে দিয়েছে। সত্যি, আমি হয়তো বাঙালি নই কিন্তু আমি পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বড় হয়েছি এবং বাংলার সংস্কৃতিবোধ আমি জানি। বাংলার সমাজে আমার একটা জায়গা রয়েছে, তারা অনেকেই আমাকে ভালোবাসে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে বাঙালিরা যারা আমাকে ভালোবাসে তাদের আশীর্বাদেই আমি এই ঘটনার জন্য নির্দোষ প্রমানিত হব।” মূর্তি কান্ডের জন্য ব্যাঙ্কশাল কোর্টেও তিনি হাজিরা দেবেন আগামী ১৮ তারিখ। সেখানেও তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে আশা রাকেশ সিংয়ের।

প্রসঙ্গত , ১৪মে কলকাতায় অমিত শাহের রোডশো’কে কেন্দ্র করে প্রথম কলেজ স্ট্রিট চত্বরে গোলমাল ছড়ায়। পরে সেই গোলমাল গড়ায় বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে মূর্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনায়। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে শাসকদল। পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে বিজেপি শিবির। ঘটনার তদন্তে ৮ জনের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে কলকাতা পুলিশ। সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে পুলিশ। সেই তদন্তের ফাঁকেই রাকেশ সিংয়ের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। যেখানে ওই যুবনেতা তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যদের মোটা ডান্ডা নিয়ে অমিত শাহের রোড শোতে আসতে বলতে শোনা যায়। এর মাঝে পুলিশকে আটকে রেখে মারধর করার অভিযোগও উঠেছিল রাকেশের বিরুদ্ধে।