সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি ভারতের মহাকাশ যাত্রার মুখ। ভারতের প্রথম মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা। মহাকাশ থেকে ভারতকে কেমন লাগছে এই সম্পর্কে ইন্দিরা গান্ধীকে বলেছিলেন , ‘সারে জাহাসে আচ্ছা’। আবার সেই তিনিই মহাকাশ থেকে নিজের দেশে ফিরে অসহ্য হয়ে গিয়েছিলেন। সব কিছু ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন। মহাশূন্য থেকে দেশে ফেরার পরের দুঃসহ স্মৃতি কখনই ভুলতে পারেন না তিনি।

বয়স্ক মহিলারা তাকে আশীর্বাদ করতেন, ভক্তরা তার অটোগ্রাফ নিতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলতেন তার জামা। রাজনীতিবিদগণ ভোটের জন্য তাকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো তার জীবনে সহ্যেরও সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি এসব করতে করতে বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সবসময়ই তাকে মুখে হাসি নিয়ে থাকতে হত। রাকেশ শর্মা পাঞ্জাবের পাটিয়ালা শহরে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। শৈশব থেকেই বিজ্ঞান পাগল রাকেশের কাছে বৈদ্দুতিন যন্ত্র ছিল তার খেলার একমাত্র সঙ্গী, বৈদ্দুতিন যন্ত্রকে পরীক্ষা করে দেখা আর খারাপ হয়ে যাওয়া যন্ত্রকে ঠিক করা ছিল তার নেশা। হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করার পর মাত্র ২১ বছর বয়সেই রাকেশ শর্মা ভারতীয় বায়ু সেনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

রাকেশ শর্মা ১৯৬৬ তে বায়ুসেনার ক্যাডেট হিসাবে যুক্ত হয়েছিলেন এরপর ১৯৭০ এ একজন টেস্ট পাইলট হিসাবে নিযুক্ত যুক্ত হয়েছিলেন । ১৯৭১ এ পাকিস্তানের যুদ্ধে রাকেশ শর্মা কর্তিক ” মিকয়ান – গুরেভিচ ( মিগ ) যুদ্ধ বিমান ‘এর সফল উড়ান তাঁকে প্রচারের ছটায় নিয়ে এসেছিল। পরবর্তী কালে বায়ুসেনার বিভিন্ন বিভাগীয় স্তর পার করে ১৯৮৪ সালে “স্কোয়াড্রন লিডার এবং পাইলট’ হিসাবে নিযুক্ত হন।

এর কিছু দিন পর ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এর যৌথ মহাকাশ অভিযানে ভারতের পক্ষ থেকে রাকেশ শর্মার নাম চয়ন করা হয়। ১৯৮৪ সালের ৩ এপ্রিল সোভিয়েত মহাকাশযান সয়ুজ টি-১১ রাকেশ শর্মা সহ আরো দু যান মহাকাশচারী কে নিয়ে মহাকাশের উদেশ্যে রওনা হওয়ার সাথে সাথে প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী হিসাবে রাকেশ শর্মার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে যায় । রাকেশ শর্মা এই অভিযানে সাল্যুন -৭ মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উত্তর ভারতের কিছু অংশের ফটোগ্রাফি করেন, এর মধ্যে হিমালয়ের কোলে একটি নির্মিয়ামান হাইড্রো-পাওয়ার প্রজেক্ট এর ফোটোগ্রাফি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।এছাড়াও মহাকাশ থেকে তিনি তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন হয়েছিন। রাকেশ শর্মার মহাকাশ যাত্রার সাথে সাথে ভারতও বিশ্বের ১৪ তম দেশ মহাকাশচারী দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। রাকেশ শর্মা উইং কমান্ডার হিসাবে ১৯৮৭ সালে ভারতীয় বায়ু সেনার কর্ম জীবন থেকে অবসর নিয়েছিলেন। এর পর ১৯৯২ সালে তিনি হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড এ চিফ টেস্ট পাইলট হিসাবে সংস্থার নাসিক ডিভিশন এর সাথে যুক্ত হন, এর কিছুদিন পর বেঙ্গালোরে পাড়ি দেন এবং ন্যাশনাল ফ্লাইট টেস্ট সেন্টারে লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট প্রোগ্রাম এ কাজ শুরু করেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ