নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে, এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সোমবার লোকসভায় এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। কলকাতা পুলিশ ও সিবিআইয়ের মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই আশঙ্কা প্রকশ করেন রাজনাথ।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রের হাতে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে তার কর্তব্য পালন করতে দেওয়া হয়ি, সেই ঘটনাকে অভূতপূর্ব বলে ব্যাখ্যা করেছেন রাজনাথ সিং। এদিন তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের যে কোনও জায়গায় অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হলে, কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।’

এছাড়া, সোমবার সকালেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীতে ফোন করে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

রবিবার রাতেই রাজ্যপাল নবান্নের শীর্ষ কর্তাদের তলব করেছেন। মুখ্যসচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টচার্য এবং ডিজিপি ভিরেন্দ্রকে তলব করেন রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠী। তবে ঠিক কি কারণে রাজ্য প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্তাদের রাজভবনে তলব করা হয়েছে সেই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

অনভদিকে, সোমবারই রাজ্যে পেশ হয় বাজেট। সেই বাজেট পেশ হওয়ার আগে ধর্নামঞ্চেই মন্ত্রিসভার বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চের পাশেই করা হয়েছে একটি জায়গা। সেখানে সমস্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা।

এরপর বৈঠক শেষে সবাই বিধানসভার দিকে রওনা হন। শুধু মন্ত্রীরাই নন, শাসকদলের বিধায়করাও এই মুহূর্তে মেট্রো চ্যানেল অর্থাৎ ধর্নামঞ্চে ছিলেন। সেখান থেকেই সমস্ত বিধায়করা বিধানসভায় বাজেটে যোগ দেন।

অন্যদিকে, গোটা রাজ্য প্রশাসনকে ধর্নামঞ্চে নিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চে মুখ্যসচিব মলয় দে সহ অন্যান্য আমলারাও রয়েছেন। সেখানেই সমস্ত প্রশাসনিক ফাইল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সই করছেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, জেলায় কি কি পরিস্থিতি তারও খবর মঞ্চ থেকে বসেই নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে সিবিআই হানার পর রবিবার রাতেই কেন্দ্র ও সিবিআই-এর অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রাত কেটে গিয়েছে সকাল হয়েছে৷ সিঙ্গুর আন্দোলন স্মরণ করিয়ে এখনও ধর্নায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷