কলকাতাঃ  লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয় রাজীব কুমারকে। মূলত কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে তিন বছরের বেশি সময় ছিলেন তিনি। সিআইডি পদে পাঠানো হয় রাজীব কুমারকে। এবার আর তাঁকে রাজ্যেই রাখল না কমিশন। সিআইডি(এডিজি) পদ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হল মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এই পুলিশ অফিসারকে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার মধ্যে তাঁকে দিল্লিতে রিপোর্ট করতে হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। রাতারাতি কমিশনের এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো বিষয়টি অমিত শাহ এবং মোদীর অঙ্গুলিহেলনেই হচ্ছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁর।

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজীব কুমার ভোটের কোনও কাজে যুক্ত ছিল না। কিন্তু কেন হঠাত তাঁকে তোলা হল। হাওয়ালা-কান্ড ধরে দিচ্ছে বলেই কি রাজীব কুমারের উপর এত রাগ? প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে কলকাতায়। বিজেপির তাবড় তাবড় মন্ত্রী থেকে নেতাদের গাড়ি চেকিং চলছে। সম্প্রতি আজ বুধবারও বড়বাজার অঞ্চলে এক কোটি টাকার বাক্স নিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এরপরেই রাজীব কুমারকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করে কমিশন। যদিও কমিশনের পালটা যুক্তি, পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ার কাজটি নাকি করছেন এই আইপিএস অফিসারই।

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মমতার আরও তোপ, একটার পর একটা ঘটনা ঘটেছে কখনও বলিনি। সিইও সুদীপ জৈন চিঠি দিয়ে পুলিশকে বলে দিয়েছিল, সব কিছু করে দিতে হবে। কলকাতা পুলিশের কাছে চিঠি এসেছিল। রাজীব কুমারের উপরে এত রাগ কেন? হাওয়ালার টাকা ধরছে বলে? মুকুল রায়, চম্বলের ডাকাত, এমনকি হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ মমতার। এই প্রসঙ্গে মমতা আরও বলেন, অসমের মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা সারদা কান্ডে কয়েক কোটি টাকার কেলেঙ্কারি আছে। কিন্তু তাঁকে কিছু বলা হচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রাজীবের পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, আইপিএস, আইএএসরা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ। এমন নির্বাচন কমিশন জীবনে দেখেনি। বাংলার মানুষের জন্য পঞ্চাশটা শো-কজ খেতে রাজি। কিন্তু কিছুতেই আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না বলে কমিশনকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তৃণমূল নেত্রী।