স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : সারদা মামলায় কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে খোঁজে পাচ্ছে না সিবিআই। রাজীবের উপর থেকে আদালত রক্ষা কবচ তুলে নেওয়ার পর থেকেই তার নাগাল পেতে মরিয়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই শুক্রবার দুপুরে ফের রাজীব কুমারের সরকারি বাসভবন পার্ক স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল সিবিআইয়ের একটি টিম। সেই টিমে সিবিআইয়ের ডিএসপি পদমর্যাদার একজন মহিলা অফিসার ছিলেন।

সূত্রের খবর, সিবিআইয়ের ওই মহিলা অফিসার এদিন আইপিএস রাজীব কুমারের স্ত্রী সঞ্চিতা কুমারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। পার্কস্ট্রিটে সরকারি বাসভবনে সিবিআই তার কাছ থেকে জানতে চান প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা এডিজি সিআইডি রাজীব কুমার কোথায় আছেন। তিনি বর্তমানে কোন ফোন নম্বর ব্যবহার করছেন। গত শুক্রবার আদালত প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের উপর থেকে রক্ষাকবচ তুলে নেয়। তারপরই সিবিআইয়ের একটি টিম পৌঁছে যায় পার্কস্ট্রিটে রাজিব কুমারের সরকারি বাসভবনে।

যেখানে গত ফেব্রুয়ারী মাসের ৩ তারিখে সিবিআইয়ের একটি টিম গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। যদিও গত শুক্রবারে তেমন কোন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি সিবিআই কে। সেদিন বিনা বাধায় একটি নোটিশ তার সরকারি বাসভবনে দিয়ে বেরিয়ে আসেন। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ফের আরও একটি নোটিস ধরায় সিবিআই। নোটিসে ১৬০ সিআরপিসি ধারায় অবিলম্বে হাজিরার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজীব কুমারকে। শুক্রবার শুধুমাত্র পার্ক স্ট্রিটেই নয়, সিবিআইয়ের একটি টিম পৌঁছায় ইবিজা রিসর্টেও।

রাজীব কুমারের খোঁজে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ইবিজা রিসর্টে হানা দিয়েছে সিবিআইয়ের একটি টিম । সেখানে গেস্ট লিস্ট ঘেঁটে দেখা হয় রাজীব কুমার নামে কোনও অতিথি এসেছেন কিনা। এছাড়া একটি টিম রায়চকেও পৌঁছে গিয়েছিল। পাশাপাশি আরও মোট ৬টি জায়গায় একসঙ্গে চলছে তল্লাশি। কলকাতায় পার্ক স্ট্রিটের বাড়ি ছাড়াও শান্তিনিকেতন বিল্ডিং এবং সিদ্ধা অ্যাপার্টেমেন্টেও চলে তল্লাশি। রাজীব কুমারের ফোন সুইচ অফ করা আছে। তাঁর টাওয়ার লোকেশনও খুঁজে বের করা সম্ভব হচ্ছে না।

উল্লেখ্য বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরেই আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন রাজীব কুমার। আইনজীবী মারফৎ সরকারি রক্ষাকবচের আর্জি জানান রাজীব কুমার। তাঁকে গ্রেফতার করতে গেলে, একজন সরকারি কর্মী হিসেবে, রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন। এই মর্মে আদালতের কাছে আর্জি জানান রাজীব কুমারের আইনজীবীরা। যার পালটা সওয়াল করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী। কলকাতা হাইকোর্ট রক্ষাকবজ তুলে নেওয়ার পর থেকেই বেপাত্তা এই পুলিশকর্তা৷

পার্ক স্ট্রিটে রাজীবের বাসভবনে গিয়ে তল্লাসি চালাতে থাকেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা৷ বাদ দেওয়া হয়নি রান্নাঘরও৷ বাসভবনে নোটিশ ঝুলিয়ে আসে সিবিআই৷ সেই নোটিশে বলা হয়, অবিলম্বে সিবিআইয়ের সঙ্গে দেখা করতে হবে৷ রাজীবকে খোঁজে বের করতে দিল্লি থেকে বিশেষ দল এসেছে কলকাতায় ৷