নয়াদিল্লি: পাকিস্তানকে দেবে রাখতে হাইড্রোজেন বোমা বেছে নিয়েছিলেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী৷ ১৯৮৫ সালে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি ও তৎকালীন কংগ্রেস সরকার৷ এমনই রিপোর্ট মিলেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র গোপন দলিলে৷

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইন্দিরা গান্ধীর জমানায় তৈরি পরমাণু বোমার থেকে বহু শক্তিশালী ছিল এই বোমা৷
এই খবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রেগনের টেবিলে পৌঁছতেই চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি৷

সম্প্রতি সিআইএ গোপন দলিলের ৯, ৩০, ০০০ (৯ লক্ষ ৩০ হাজার) অংশ আপলোড করেছে৷ এই নথি ও দস্তাবেজে রয়েছে ’৮০-র দশকে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বিবরণ৷

সিআইএ জানিয়েছে, রাজীব গান্ধীর নির্দেশে অত্যন্ত গোপনে  হাইড্রোজেন বোমা তৈরি ও পরমাণু কর্মসূচি চলাচ্ছিল ভারত৷ নিরাপত্তার এতই কড়াকড়ি ছিল যে মার্কিন গোয়েন্দাদের বিস্তর ঘাম ঝরাতে হয়৷

আশির দশক৷ তখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী৷ তখনই পাঞ্জাবে খালিস্তানি জঙ্গি সমস্যা তীব্র আকার নেয়৷  অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির চলে গিয়েছিল উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের দখলে৷ শুরু হয় অপারেশন ব্লু স্টার৷ জঙ্গি মুক্ত করা হয় স্বর্ণমন্দিরকে৷ জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ রিপোর্ট দিয়েছিল, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পরাজয়ের বদলা নিতে পাকিস্তান তার পরমাণু কর্মসূচি বিশেষ শক্তিশালী করছে৷ একইসঙ্গে পাঞ্জাবের খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরও মদত দিচ্ছিল পাক সরকার৷ এরকমই পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী৷

স্বর্ণ মন্দির অভিযানের পর খুন করা হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে৷ মায়ের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী হয়েই রাজীব গান্ধী পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির থেকে অনেক শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল৷ এই প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন রাজীব গান্ধী৷ ১৯৮৫ সালের  ৪ মার্চ তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তান যতই তার পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করুক, ভারত এক্ষেত্রে অনেক শক্তিশালী৷ সিআইএ রিপোর্টে আছে এমনই সব তথ্য৷

কেমন ছিল রাজীব গান্ধীর পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ?

সিআইএ রিপোর্ট জানাচ্ছে, ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের ৩৬ জন পরমাণু বিজ্ঞানীর দলের প্রস্তুতি শেষ হয়েছিল৷ তাঁরা মুম্বাইয়ের কাছেই কোনও এক স্থানে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করেছিলেন৷ পরমাণু অস্ত্র তৈরির অন্যতম প্লুটোনিয়াম ভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছিল৷

এসব জানতে পেরেই রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগনের৷ তিনি দেরি করেননি৷ বিশেষ দূত পাঠিয়েছিলেন দিল্লিতে৷  ভারতের হাইড্রোজেন বোমা তৈরির পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির তীব্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে৷ এই সম্ভাবনা দেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রেগন৷  তড়িঘড়ি ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর কাছে দূত পাঠিয়ে ছিলেন৷

তবে সেই দূতের  সঙ্গে দেখা করেননি তিনি৷  সিআইএ জানিয়েছে, পাকিস্তান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘দোস্তি’-র কারণেই মার্কিন দূতকে পাত্তা দেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী৷ রিপোর্টে আরও বলা  হয়েছে, ভারত-সোভিয়েত রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল রাজীব গান্ধীর অবলম্বন৷

ভারতের হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ক্ষেত্রে সোভিয়েত রাশিয়ার (অধুনালুপ্ত) মদত ছিল কিনা সে বিষয়ে ইঙ্গিত দেয়নি সিআইএ৷ এদিকে  হাইড্রোজেন বোমা তৈরি হলেও তার পরীক্ষা করেননি রাজীব গান্ধী৷ পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নির্দেশে ভারত পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল৷ পালটা পাকিস্তানও পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায়৷

#36 scientists at the Bhabha Atomic Research Centre had prepared a Hydrogen bomb under the Rajiv Gandhi government to counter the threat posed by the Pakistan’s nuclear arsenal.