মুম্বই: সোমবার ছিল চেতন সাকারিয়ার জীবনের এক স্মরণীয় দিন৷ তাঁর অফ-কাটার বুঝতে না-পেরে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। স্বপ্নের নায়কের উইকেট তুলে নিয়ে শরীরটা শূন্য ছুঁড়ে দিয়েছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের বছর তেইশের এই তরুণ৷ ম্যাচের পর ধোনির সঙ্গে ছবি তুলে তা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন সাকারিয়া৷

সৌরাষ্ট্রের এই বাঁ-হাতি পেসারের আইপিএলের অভিষেকটাও হয়েছিল স্বপ্নের মতো৷ প্রথম ম্যাচে পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ৩১ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি শর্ট ফাইন লেগে শূন্যে শরীর ছুঁড়ে নিকোলাস পুরানকে তালুবন্দি করে তাক লাগিয়েছেন সাকারিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে উইকেট না-পেলেও তৃতীয় ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ফের তিন উইকেট নেন রয়্যালসের এই তরুণ৷ ধোনি ছাড়াও তাঁর শিকার সুরেশ রায়না ও অম্বাতি রায়ডু৷ ইনিংসের ১৩তম ওভারে রায়ডু ও রায়নাকে তুলে নিয়ে রয়্যালসকে ম্যাচ ফিরিয়েছিলেন সাকারিয়া৷ তবে তাঁর জীবনের স্মরণীয় মুর্হূতটা আসে ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে৷ স্বপ্নের নায়ক ধোনিকে আউট করেন তিনি৷

ম্যাচের পর ধোনির সঙ্গে ছবি তুলে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে সাকারিয়া লেখেন, “admire you since i was a child and today i got the opportunity to play with you, it was the best moment of my life and i will cherish it forever.There won’t be anyone like you ever.. thanks a lot for inspiring all of us throughout the career.”

সৌরাষ্ট্রের ২৩ বছরের বাঁ-হাতি পেসারের উত্থানের গল্পটা অনেকটা পাহাড়ি রাস্তার জিগ-জ্যাগের মতো। এবারের আইপিএল নিলামে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় সাকারিয়াকে কেনে রাজস্থান রয়্যালস৷। তাঁর এই আইপিএল চুক্তি যেন নতুন সকাল এনে দিয়েছে তাদের পরিবারে। লরি ড্রাইভার চেতনের বাবা তিনবার দুর্ঘটনার পর শয্যাশায়ী। এমন সময় পরিবারের একমাত্র রোজগেরে চেতনের ছোট ভাই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কিন্তু চেতনের খেলায় মনোনিবেশে বিঘ্ন ঘটবে বলে সেই ঘটনা চেতনের থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তাঁর মা। তবে কয়েকদিন বাদে নিজেই ধৈর্য্য হারিয়ে সবকিছু চেতনকে বলে দেন তাঁর মা। সমস্ত ঘটনা শোনার পর ভাই হারানোর শোকে এক সপ্তাহ কারও সঙ্গে কথা বলেননি চেতন।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের ‘স্টেপিং স্টোন’ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটের চেয়েও কিয়দংশে এগিয়ে বোধহয় আইপিএল। তাই টি নটরাজন কিংবা ওয়াশিংটন সুন্দরদের মতো আইপিএলে বাজিমাত করেই জাতীয় দলের দরজা খুলে যাক সাকারিয়ার সামনে৷ তবে এখনও লম্বা পথ চলা বাকি ২৩ বছরের ছেলেটির সামনে। জীবনের কালো অধ্যায়গুলোকে পিছনে ফেলে সাকারিয়ার সামনে এখন এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.