জয়পুর: ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্কের আঁচ পরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। যা সোশ্যাল মিডিয়া, ক্রিকেট ম্যাচ বা কিছু সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দুই দেশের অর্থনীতির মধ্যেও পরে বিস্তর প্রভাব।

এই সবকিছুর উর্ধ্বে গিয়ে ভারত-পাক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রভাব ফেলল দুই ব্যক্তির বিয়েতে। যেখানে মিয়া-বিবির সঙ্গে কাজির রাজি ছিলেন। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের সৌজন্যে দুই ভারত-পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্পর্ক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেই বিয়েতে।

ফাইল ছবি

পাত্র মহেন্দ্র সিং-এর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল ছাগন কানওয়ারের। গত মার্চ মাসের আট তারিখে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। যার কারন হচ্ছে, কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা। যার কারণে শীতল হয়ে যায় ভারত-পাক সম্পর্ক। এবং পিছিয়ে যায় এই পাত্র-পাত্রীর বিয়ে।

আরও পড়ুন- নতুন বছরে বদলে যাচ্ছে শহরের ঐতিহ্য ‘কুমোরটুলি’

দুই দেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতির কারণে বিয়ে ভেঙে যাওয়া বা পিছিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। কারণ পণ, প্রেম বা ধর্মীয় বিভেদ মূলত এই সকল কারণেই বিয়ে ভেঙে যায়। পারিবারিক জটিলতার কারণে বিয়ে পিছিয়েও যায়। যেগুলির কোনোটাই এই যুগলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কিন্তু দুই দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কীভাবে বিয়ে পিছিয়ে গেল?

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে পাত্র এবং পাত্রীর বাড়ির ঠিকানায়। পাত্র মহেন্দ্র রাজস্থানের বারমের-এর বাসিন্দা। বারমেরের খেজাদ কা পার নামক গ্রামের বাসিন্দা মহেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল সিনোই গ্রামের বাসিন্দা ছাগন কানওয়ারের। পাত্রীর গ্রামটি অবস্থিত পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে। পুলওয়ামা কান্ডের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক শিতল হয়ে যাওয়ায় বিয়ে করতে পাকিস্তানের মাটিতে যাওয়া হয়নি মহেন্দ্রর।

আরও পড়ুন- নতুন বছরে বদলে যাচ্ছে শহরের ঐতিহ্য ‘কুমোরটুলি’

পাত্রের পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, থর এক্সপ্রেসে করে পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল বারমেরের সিং পরিবারের। থর এক্সপ্রেস ভারতের আত্তেরি এবং পাকিস্তানের লাহোর হয়ে যাতায় করে। ওই ট্রেনের টিকিট কাটাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অন্তিম বিয়ের সপ্তাহ তিনেক আগে হয়ে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়ে যায় ভারতের। যার কারণে মহেন্দ্র এবং তাঁর পরিবারকে পাক ভূমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইসলামাবাদ।

সেই কারণে বিয়ে পিছিয়ে যায়। তবে পিছিয়ে গেলেও বিয়ে কিন্তু ভাঙেনি। পরিস্থিতি থিতু হলে ফের চার হাত এক করার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করে দুই পরিবার। ঠিক হয় আগামি ১৬ এপ্রিল হবে বিয়ে। দিন চারেক আগে শুক্রবার বিয়ে করতে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মহেন্দ্র। সেই থর এক্সপ্রেসে করেও পড়শি দেশে পারি দিয়েছেন তিনি। ট্রেনে ওঠার আগে তিনি বলেছেন, “আমাদের বিয়ে গত মাসের আট তারিখে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলওয়ামা কাণ্ডের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়ায় বিয়ে পিছিয়ে যায়। এখন অবস্থা ভাল হয়েছে তা আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি। আমি ভীষণ খুশি।”