জয়পুর: লোকসভা ভোটের আবহে আলওয়ার গণধর্ষণের ঘটনা হয়ে ওঠে রাজনীতির চর্চার বিষয়৷ দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া আলওয়ার গণধর্ষিতার পাশে এসে দাঁড়াল রাজস্থান সরকার৷ নির্যাতিতাকে পুলিশের চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে বলে খবর৷

রাজস্থানের কংগ্রেস শাসিত সরকার সূত্রে খবর, ওই নির্যাতিতাকে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হয়েছে৷ সেই প্রক্রিয়াও অনেকদুর এগিয়েছে৷ কেন পুলিশের চাকরি দেওয়া হল? জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা স্বয়ং পুলিশে চাকরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন৷ জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে যে জঘন্য অন্যায় হয়েছে এমন অন্যায়কারীদের কঠোর শাস্তির মুখে ফেলে দিতে চান৷ তারপরই তাঁর নাম পুলিশের চাকরির জন্য বিবেচনা করা হয়৷

গত ২৬ এপ্রিল গণধর্ষণের শিকার হন ওই মহিলা৷ স্বামীর সঙ্গে বাইকে করে যাওয়ার সময় কিছু পুরুষ তাদের পথ আটকায়৷ জোর করে তাদের টেনে নিয়ে যায় পাশে ফাঁকা জমিতে৷ সেখানে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে একে একে ধর্ষণ করে সকলে৷ সেই ধর্ষণের ভিডিও করে অভিযুক্তরা৷ এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর দেরিতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে৷ যদিও সেই অভিযোগ খণ্ডন করে জানানো হয়, ২ মে এফআইআর দায়ের করা হয়৷ তবে তার দু’দিন পরে ধর্ষণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে৷

পুলিশ দ্রুত পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে৷ যে ভিডিওটি রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেয় তাকেও গ্রেফতার করা হয়৷ গণধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়তে গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে যায়৷ চাপে পড়ে রাজস্থানের কংগ্রেস শাসিত সরকার৷ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশের জনসভায় এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাজ্য সরকারকে বিদ্ধ করেন৷ তবে মোদীর সমালোচনাকে গায়ে না মেখে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট পাল্টা জানান, সবাই জানে উনি রাজনীতি করছেন৷ মিথ্যা কথা বলছেন৷ গণধর্ষিতার সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও৷ তিনি জানান, নির্যাতিতাতে ন্যায় দিয়েই ছাড়বেন৷