জয়পুর: পঙ্গপালের জ্বালায় চিন্তা অনেকটা বেড়েছে, তাই বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করতে ১০০ ফায়ার ইঞ্জিন কিনছে রাজস্থান, তেমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। পঙ্গপালের দল প্রজনন করার আগেই তাঁদের দৌরাত্ম্য কমাতে স্প্রে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাধারণত, রাতের দিকে গাছের মগডালে এক জায়গায় হয় পঙ্গপাল। আকাশ থেকে পেস্টিসাইড স্প্রে করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাড়াতাড়ি পৌঁছতেই ফায়ার ইঞ্জিন কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজস্থানের কালেক্টরদের টাকা দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা স্প্রে মেশিন যুক্ত গাড়ি কেনার টাকা ইতিমধ্যেই পেয়েছেন যেখানে জলের ট্যাঙ্ক এবং ট্র্যাক্টর দেওয়া আছে যা দিয়ে পঙ্গপাল কে কাবু করা যেতে পারে।

অশোক গেহলট জানিয়েছেন, ১০০০ স্প্রে যুক্ত মেশিন কেনার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করেছে রাজ্য। কিছুদিন আগেই জানা গিয়েছিল ‘ডেসার্ট লোকাস্টস’-এর নতুন প্রজনন ক্ষেত্র পাকিস্তান, সেখান থেকেই সংলগ্ন এলাকা দিয়ে রাজস্থানে ঢুকছে পঙ্গপালের দল।

আরও জানা যায়, বিষয়টি ভাগ্যের যে রবি শস্য চাষ শেষ হয়েছে এবং খারিফ শস্য রোপণ শুরু হয়নি, হবে। তাই এমন সময় এই ঘটনা বেশ অনেকটা স্বাভাবিক।

২.৩ কেজি শষ্য একটি পঙ্গপাল প্রতিদিন শেষ করতে পারে। ফলে এর পরিণতি কি হতে পারে, তা রীতিমত চিন্তায় ফেলছে। ৪০ মিলিয়ন পঙ্গপাল ৩৫ হাজার মানুষের খাবার শেষ করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা গবেষণায় দেখেছেন, আফ্রিকা ছাড়াও বালুচিস্তান, ইরান এবং পাকিস্তান থেকেও ভারতে প্রবেশ করছে পঙ্গপালের দল।

এপ্রিল মাসে পাকিস্তান থেকে রাজস্থানে প্রবেশ করেছে পঙ্গপালের দল তারপরেই সেখান থেকে দেশের পশ্চিমের একাধিক জায়গায় তা ছড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমানে তা রাজস্থান, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত বলেই জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রকের তরফে।

একটি পরিণত পঙ্গপালের ঝাঁক একদিনে হাওয়ার সঙ্গে ১৫০ কিমি অবধি উড়তে পারে। সতেজ খাবার থেকে নিজের ওজনের খাবার প্রতিদিন খেতে পারে একটি পরিণত পতঙ্গ। এক বর্গ কিলোমিটারে একঝাঁক পতঙ্গ ৩৫ হাজার মানুষের একদিনের খাবার খেয়ে নিতে পারে।

তবে পঙ্গপালের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এমন যে তাঁরা একা এবং দলগতভাবে আলাদারকম। তাঁরা যেমন ঝাঁকে ঝাঁকে হামলা চালাতে পারে তেমনই একা একাও ততটাই সক্ষম।

ইতিমধ্যেই রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাতের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছে পঙ্গপালের ঝাঁক। এবার মহারাষ্ট্রে ঢুকে পড়েছে পঙ্গপালের দল। কৃষকদের বলা হয়েছে যত বেশি সংখ্যক র‍্যাকেট তৈরি করার জন্য। ড্রাম, টিনের কনটেইনার, বাসনপত্র এমনকি ভ্রাম্যমান ডিস্ক জকি, পঙ্গপালকে ভয় দেখাতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পঙ্গপালের হামলা সামাল দিতেও ড্রোন উড়িয়েছে রাজস্থান। টাইমস অফ ইণ্ডীয়ার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে পঙ্গপাল তাড়াতে ড্রোন ব্যবহার করেছে রাজস্থান।

মূলত কীটনাশক ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। একধরনের শব্দ তৈরি করে পঙ্গপাল তাড়াতে সাহায্য করে। যেসব জায়গায় ট্র্যাক্টর পৌঁছতে সক্ষম নয় সেখানেই ড্রোনের ব্যবহার করা হয়েছে। আরও ৩০ টি ড্রোন এইকাজে ব্যবহার করা হবে বলেই জানা গিয়েছে।

আরও জানা যাচ্ছে, ১৫টি স্প্রেয়ার ব্রিটেন থেকে আগামী ১৫ দিনে এসে পৌঁছবে। আরও ৪৫টি আগামী দেড়মাসে এসে পৌঁছবে, এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেই জানা গিয়েছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প