ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় চরম অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস বহাল থাকছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির তীব্রতা কমবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস, অর্থাৎ দুর্যোগের জেরে যে দুর্ভোগ সইতে হচ্ছে উত্তরবঙ্গের মানুষকে তা আরও এক দিন সইতে হবে। তারপর মিলতে পারে স্বস্তি।

মঙ্গলবার থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস বা যে সব সতর্কতা দেওয়া হয়েছে বিগত কয়েক দিন ধরে তা তুলে নিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সেদিন দিন আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলা জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কোচবিহারে ১৯৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন : ব্রহ্মপুত্রে ডুবতে বসেছে বিষ্ণুমূর্তি, বিপদ বাড়ছে শেষ নাগে

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে জলপাইগুড়িতে এবং ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে আলিপুরদুয়ার শহরে। শিলিগুড়িতে ৯১.০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে শনিবার। বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কোচবিহার শহরের একাধিক ওয়ার্ড। জল জমে যায় কোচবিহার প্রাসাদের সামনেও। এই প্রবল বৃষ্টির ফলে জলস্ফীতি দেখা দেয় তোর্সায়। জলস্ফীতির প্রভাবে কোচবিহারের শহর লাগোয়া একটি অঞ্চলে একটি আশ্রম-সহ একাধিক বাড়ি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে বলে খবর স্থানীয় সূত্রে।

কালিম্পঙে ৩৩.০ , দার্জিলিংয়ে ৬২.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে অর্থাৎ সমতলের থেকে তুলনামূলক বৃষ্টির দাপট কমেছে পাহাড়ে। ফলে দু’দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার দুপুরে খুলে দেওয়া হয় ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। কালিঝোরার কাছে শ্বেতীঝোরায় প্রবল ধসের ফলে বৃহস্পতিবার থেকে শিলিগুড়ির সঙ্গে সিকিমের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। যেতে হচ্ছিল ঘুরপথে। এ দিন দুপুরে সেনাবাহিনীর চেষ্টায় সেই রাস্তা আবার পরিষ্কার করা হয়। তবে এই অঞ্চলে আরও ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ আজ রবিবার এবং সোমবারও বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন : ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মণিপুর

এদিকে দক্ষিণবঙ্গের অবস্থা শোচনীয়। বৃষ্টি প্রায় হচ্ছে না বললেই চলে। কলকাতার অবস্থা আরও খারাপ, অস্বস্তিকর গরম বাড়ছে সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রাও। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি বেশী। রবিবার সকালেও বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা , আজ সকালে পারদ ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি বেশী। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮৯ শতাংশ সর্বনিম্ন ৫৬ শতাংশ। বৃষ্টি হয়নি।