সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : বৃষ্টির পরিমান কলকাতাসহ সমগ্র দক্ষিনবঙ্গে খারাপ হচ্ছে। মাঝ শ্রাবণে এসেও বৃষ্টির চাহিদা ক্রমে প্রকট হচ্ছে কলকাতা সহ সমগ্র গাঙ্গেয় দক্ষিনবঙ্গে। কিন্তু বৃষ্টি তার দেখা নেই বললেই চলে উল্টে মিলছে বিশ্রী গরম। এই পরিস্থিতি কবে রেহাই মিলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এত শুকনো শ্রাবণ সচরাচর দেখা যায় না। তথ্য অনুযায়ী গাঙ্গেয় বঙ্গে গত এক মাসে বৃষ্টির ঘাটতি ১৮ শতাংশ।

বৃষ্টি হওয়ার কথা ৩৩৪.৭ মিলিমিটার, বৃষ্টি হয়েছে ২৭৪.৫ মিলিমিটার। কলকাতায় বৃষ্টির ঘাটতি ৮ শতাংশ, হুগলিতে বৃষ্টির ঘাটতি ১১ শতাংশ। সবথেকে অবস্থা খারাপ হাওড়ার। বৃষ্টির ঘাটতি ২৮ শতাংশ। উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমান ৬২৫.৯ মিলিমিটার। বৃষ্টি হয়েছে ৮৬০.২ মিলিমিটার। বৃষ্টি বেশি হয়েছে ৩৭ শতাংশ।

আর এটাই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের বৃষ্টির পরিমানকে স্বাভাবিক থেকে বেশি রেখেছে। সমগ্র বাংলায় এই সময়ে স্বভাবিক বৃষ্টির পরিমান ৭৩৬.৬ মিলিমিটার, বৃষ্টি হয়েছে ৭৯৮.৫ মিলিমিটার। আট শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। মূলত মেঘলা আকাশ। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকা আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়বে। শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতায় আজ, শনিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। গতকাল, শুক্রবার বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ৫৬ থেকে ৯৪ শতাংশ।

বৃষ্টি হয়েছে ০.৫ মিলিমিটার। সল্টলেকে বৃষ্টির পরিমাণ ৪.৮ মিলিমিটার।এদিকে চলতি সপ্তাহে আরও একদিন উত্তরবঙ্গে ঝেঁপে বৃষ্টি চলবে। প্রবল বর্ষণের কারণে ভূমিধ্বসের আশঙ্কাও রয়েছে। এমনই সতর্কবার্তা জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত দার্জিলিং ১২.২মিলিমিটার, কোচবিহারে ২৩.৪ মিলিমিটার, কালিম্পং ৩৬.৪ মিলিমিটার, জলপাইগুড়ি ৩৩.১ মিলিমিটার, মালদহে ১১.১ ও শিলিগুড়িতে ১২১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলছে।

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আজ শনিবারও প্রবল বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গে। রবিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার পরিমান অনেকটাই কম হবে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। কোনও কোনও এলাকা প্লাবিতও হয়েছে। ভেঙে গিয়েছে নদীর উপরের সেতুও। পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে তাই ধ্বস নেমে রাস্তা আটকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ